Efficiency Guidelines 2026: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দৈনন্দিন কাজের ধরনে বড়সড় বদল আনতে চলেছে নবান্ন। মঙ্গলবার মুখ্য সচিবের দফতর থেকে প্রকাশিত ১৩০-সিএস/২০২৬ নম্বর নির্দেশিকায় একগুচ্ছ কড়াকড়ির কথা জানানো হয়েছে। মূল লক্ষ্য হল সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো।
এই নতুন নির্দেশিকায় সাতটি বিশেষ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভিডিও কনফারেন্সিং ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো। এমনকি অফিসের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রেখে যেখানে সম্ভব সেখানে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
সূচিপত্র
দৈনন্দিন কাজে কী কী বদল আসছে?
সরকারি কাজ এবং পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এখন থেকে ভার্চুয়াল মিটিংকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অযথা যাতায়াত এবং ভ্রমণের খরচ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার এবং কারপুলিংয়ের মতো পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কাগজবিহীন অফিস বা ই-অফিস ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। অপ্রয়োজনীয় স্টেশনারি খরচ কমিয়ে ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সরকারি দফতর এবং জেলা প্রশাসনকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করতে হবে।
অ্যাকশন প্ল্যান এবং কড়া সময়সীমা
মুখ্য সচিবের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি দফতরকে আগামী ২২ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাদের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এই পরিকল্পনায় স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ থাকতে হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রতি মাসে এই কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
নির্দেশিকায় স্থানীয় পণ্য বা ‘স্বদেশী’ উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া অফিসের এনার্জি সেভিং বা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে জেলাশাসক ও বিভাগীয় প্রধানদের।
কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে?
সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে ফাইল মুভমেন্ট এবং মিটিংয়ের পদ্ধতিতে। সশরীরে উপস্থিত হয়ে মিটিং করার বদলে ভিডিও কলের মাধ্যমেই বেশিরভাগ কাজ সারতে হবে। যারা ফিল্ড লেভেলে কাজ করেন তাদের জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হিসেবি হতে হবে।
এই নির্দেশিকা মূলত প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সেই অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের একটি কৌশল। বিশেষ করে জেলা স্তরের অফিসগুলিতে ই-অফিস ব্যবস্থা চালু হলে কাজের গতি যেমন বাড়বে তেমনই লাল ফিতের ফাঁসও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Department: Office of the Chief Secretary
📥 Download Govt Order









