Election Commission Guidelines: ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নতুন কিছু নির্দেশিকা জারি করেছেন। এখন থেকে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর ইভিএম সিল করা কিংবা এজেন্টদের হাতে ফর্ম ১৭ সি (Form 17C) তুলে দেওয়ার মতো কাজগুলো শেষ হলেও, পোলিং পার্টি বা বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সরাসরি বুথ ছাড়ার অনুমতি আর থাকছে না।
সূচিপত্র
নতুন নির্দেশিকার নিয়মাবলী
বুথ থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এবার বেশ কিছু কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকে সেক্টর অফিসার এবং ক্যামেরা টেকনিশিয়ান বুথে না পৌঁছানো পর্যন্ত পোলিং কর্মীদের বুথের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি ঠিক এভাবে কাজ করবে:
- সেক্টর অফিসারের উপস্থিতি ছাড়া ক্যামেরা টেকনিশিয়ান বুথের কোনো ক্যামেরা খুলতে পারবেন না।
- ক্যামেরা টেকনিশিয়ান নিজে কোনোভাবেই ক্যামেরার মাইক্রো এসডি কার্ড খুলতে পারবেন না; তাকে পুরো ক্যামেরাটিই সেক্টর অফিসারের হাতে তুলে দিতে হবে।
- একমাত্র সেক্টর অফিসারই কার্ডটি রিমুভ করবেন, আর সেই প্রক্রিয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
- এই পুরো কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রিসাইডিং অফিসার, ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড পোলিং অফিসার এবং বিএলও-র বুথ ত্যাগ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
কর্মীবাহিনীর ওপর প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের এই কড়াকড়ি পোলিং কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। টানা দুদিন অমানবিক পরিশ্রম এবং নিদ্রাহীন রাত কাটানোর পর এই নিয়ম তাঁদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত একজন সেক্টর অফিসারের দায়িত্বে থাকে প্রায় ১০টি বুথ। ভোট শেষে তিনি প্রতিটি বুথে ঘুরে ঘুরে কাজ করবেন বলে শেষের দিকের বুথগুলোতে পৌঁছাতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট বুথের পোলিং কর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুথের ভেতরেই বসে থাকতে হয়। এছাড়া, ফেরার বাসের জন্য অপেক্ষারত কর্মীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই বিলম্ব বড় সমস্যার সৃষ্টি করে।
বিকল্প ভাবনা
এই সমস্যার সমাধানে ভিন্ন কোনো ব্যবস্থার কথা ভাবা যেতে পারত বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। বুথগুলোতে থাকা সেন্ট্রাল ফোর্সের (Central Force) হাতে ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে পোলিং কর্মীরা কাজ শেষ করে দ্রুত বুথ ছাড়তে পারতেন। সেক্ষেত্রে সেক্টর অফিসার তাঁর সুবিধামতো পরে এসে সেন্ট্রাল ফোর্সের উপস্থিতিতে ক্যামেরাগুলো খুলে নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান নির্দেশিকার ফলে পোলিং কর্মীদের শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক চাপের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে।