Election Duty Change: রাজ্যে ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। হাতে সময় বলতে আর মাত্র এক সপ্তাহ। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ। ঠিক এই শেষ মুহূর্তেই জেলায় জেলায় ভোটকর্মীদের ডিউটি বা পদ ব্যাপক হারে বদলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী।
দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে আগামী ২৯ এপ্রিল, যেখানে ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানেও ডিউটি বদলের একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দু’দফা নিবিড় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এভাবে হুট করে পদ পরিবর্তন করায় নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞই। বিশেষ করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষকরাই এখন ভোটকর্মীদের তালিকায় বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন।
সূচিপত্র
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে জেলাগুলি
পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, মালদা এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলোতে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও সরকারি কর্মীরা
সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে এখন ভোটকর্মীদের ক্ষোভের ছবি। কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ডিউটির ধরন যদি শেষ বেলায় বদলে দেওয়া হবে, তবে নির্দিষ্ট পদের জন্য ঘাম ঝরিয়ে দু’দিন ধরে ট্রেনিং দেওয়ার মানে কী? অনেকে একে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে সরকারি কর্মীদের হেনস্থা করার কৌশল বলে মনে করছেন।
কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় সরকারি বা ব্যাঙ্ক কর্মীদের পোলিং পার্টিতে বিশেষ জায়গা দিতেই কি রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে এমন খামখেয়ালিপনা করা হচ্ছে? অনেক শিক্ষক তো মজা করে বলছেন, ডিউটির এই লটারি হয়তো কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে ঠিক করা হচ্ছে।
কমিশন কী বলছে?
ভোটকর্মীদের এই ব্যাপক উৎকণ্ঠা সত্ত্বেও রাজ্য নির্বাচন কমিশন কিন্তু বিষয়টিকে একেবারেই বড় করে দেখতে নারাজ। অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী সাফ জানিয়েছেন, ফার্স্ট এবং সেকেন্ড পোলিং অফিসারের প্রশিক্ষণের পদ্ধতিতে বড় কোনো তফাৎ নেই। এমনকি প্রিসাইডিং অফিসারকেও প্রায় একই ধরনের ট্রেনিং মেটেরিয়াল দেওয়া হয়। তাই ডিউটি বদল নিয়ে বিতর্কের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ কমিশন দেখছে না।
কর্মীদের প্রভাব প্রভাব
শেষ মুহূর্তের এই রদবদল সরকারি কর্মীদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি করছে। প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব অত্যন্ত স্পর্শকাতর, যার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন। হঠাৎ করে পদের এই ওলটপালটে ভোটের দিন বুথের কাজের তাল কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। কারিগরি বা পদ্ধতিগত ভুল হওয়ার আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনি এটি সরাসরি কর্মীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত রেকর্ডকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।