Election Duty Guidelines: ভোটকর্মীদের ডিসি থেকে আরসি পর্যন্ত কাজের তালিকা ও বর্ধিত ভাতার আপডেট
Election Duty Guidelines: আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পোলিং কর্মীদের জন্য ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার (DC) থেকে শুরু করে রিসিভিং সেন্টার (RC) পর্যন্ত সমস্ত কাজের একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনার জন্য প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন (ECI) ভোটকর্মীদের ডিউটি ভাতা এবং দৈনিক টিফিন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
এক নজরে (Key Takeaways)
- ভোটের আগের দিন ডিসি থেকে ইভিএম ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করে বুথে পৌঁছাতে হবে এবং রাতের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ গুছিয়ে রাখতে হবে।
- ভোটের দিন সকালে এজেন্টদের উপস্থিতিতে মকপোল করে অবশ্যই সিআরসি (CRC) সম্পন্ন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট নিয়মে মেশিন সিল করতে হবে।
- সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী প্রিসাইডিং অফিসারদের ভাতা বেড়ে ২০০০ টাকা এবং পোলিং অফিসারদের ভাতা ১৬০০ টাকা করা হয়েছে।
ভোটের আগের দিন (P-1 Day): ডিসি ও বুথের কাজ
ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে পৌঁছে প্রথমে ডিকোডিং লিস্ট দেখে পার্টি নম্বর ও বুথ খুঁজে নিতে হবে। চারজন কর্মী একসঙ্গে নিজেদের কাউন্টারে গিয়ে হাজিরা দেবেন। প্রিসাইডিং অফিসার মালপত্র নেওয়ার সময় কন্ট্রোল ইউনিট (CU), ব্যালট ইউনিট (BU) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) এর সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে নেবেন। ডিসি-তে কোনোভাবেই মেশিনের কেবল সংযোগ করা যাবে না। শুধুমাত্র কন্ট্রোল ইউনিট অন করে ব্যাটারি পার্সেন্টেজ চেক করে নিতে হবে।
বুথে পৌঁছে দিনের আলো থাকতে থাকতে পেস্টিং পেপার লাগিয়ে দেওয়া উচিত। রাতের বেলায় মার্কড কপি, ফর্ম ১৭এ এবং অন্যান্য সিল আলাদা করে গুছিয়ে রাখলে পরের দিনের কাজে সুবিধা হয়।
ভোটের দিন: মকপোল এবং ভোট গ্রহণ
ভোটের দিন সকালে এজেন্টদের উপস্থিতিতে মকপোল করা বাধ্যতামূলক। অন্তত ৫০টি ভোট দিয়ে ভিভিপ্যাট স্লিপ চেক করতে হবে। মকপোল শেষে অবশ্যই ক্লোজ, রেজাল্ট এবং ক্লিয়ার (CRC) বাটন প্রেস করতে হবে। এরপর গ্রিন পেপার সিল এবং স্পেশাল অ্যাড্রেস ট্যাগ দিয়ে কন্ট্রোল ইউনিট সিল করা হয়।
ভোট চলাকালীন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর এসএমএস পাঠাতে হবে এবং ফর্ম ১৭এ সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। বিকেল ৬টায় ভোট শেষ হলে ক্লোজ বাটন প্রেস করতে হবে। এরপর ভিভিপ্যাট থেকে ব্যাটারি বের করে নিতে হবে।
ভোট শেষে আরসি-তে জমা (After Poll at RC)
ভোট শেষ হওয়ার পর সমস্ত মেশিন ক্যারিং কেসে ভরে অ্যাড্রেস ট্যাগ দিয়ে সিল করতে হবে। রিসিভিং সেন্টারে গিয়ে ইভিএম, ভিভিপ্যাট এবং সমস্ত সংবিধিবদ্ধ ও অ-সংবিধিবদ্ধ কভার জমা দিতে হবে। সব কিছু ঠিকঠাক জমা দেওয়ার পর লাস্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে রিলিজ লিখে নিতে হবে।
সর্বশেষ আপডেট: পোলিং ডিউটি ভাতা বৃদ্ধি
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন পোলিং কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি করেছে। প্রিসাইডিং অফিসারদের দৈনিক ভাতা ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ডিউটির জন্য তারা ২০০০ টাকা পাবেন। ফার্স্ট, সেকেন্ড এবং থার্ড পোলিং অফিসারদের ভাতা ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ এককালীন ১৬০০ টাকা পাওয়া যাবে।
কর্মীদের ওপর প্রভাব (Impact on Employees)
ভুল এড়ানো: মকপোলের পর সিআরসি (CRC) না করার মতো ভুল হলে আসল ভোট ও মকপোল এক হয়ে যায়। এর ফলে পুনর্নির্বাচনের ঝুঁকি থাকে এবং কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই গাইডলাইন মেনে চললে সেই ঝুঁকি থাকে না।
মানসিক চাপ হ্রাস: আগের দিন রাতে ফর্ম ফিল-আপ এবং মালপত্র আলাদা করে রাখলে ভোটের দিন সকালে পোলিং কর্মীদের কাজের চাপ অনেকটাই কমে যায়।
আর্থিক সুবিধা: নির্বাচন কমিশনের বর্ধিত ভাতা এবং টিফিন খরচ রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ডিউটির ক্ষেত্রে একটি বড় আর্থিক স্বস্তি দেবে।
তথ্য যাচাই: প্রতিবেদনটির তথ্য অফিশিয়াল নির্দেশিকা এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের দ্বারা যাচাইকৃত।