WB Election Duty 2026: ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মকপোল এবং ভোটগ্রহণের সময়সূচী সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী মূল ভোটগ্রহণ শুরুর অন্তত দেড় ঘণ্টা আগে মকপোল বা পরীক্ষামূলক ভোট সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবার ভোটদানের সময়সীমাও বাড়িয়ে বিকেল ৬টা পর্যন্ত করা হয়েছে, যা আগে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকত।
সূচিপত্র
সর্বশেষ আপডেট এবং নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
গত ১৫ই মার্চ, ২০২৬ তারিখে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে বাংলায় বহু দফায় ভোটগ্রহণ হলেও এবার সেই নিয়মে বড়সড় বদল এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এবার মাত্র দুই দফায় সম্পূর্ণ রাজ্যের নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আগামী ২৩শে এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ঠা মে, ২০২৬ তারিখে। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং পুলিশ কর্মীরা এই বিশাল নির্বাচন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব সামলাবেন। তাই তাঁদের জন্য কমিশনের এই পরিবর্তিত নিয়মকানুনগুলি সম্পর্কে আগাম ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মকপোল প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নিয়মাবলী
ভোটের দিন সকালে ইভিএম (EVM) যন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য মকপোল করা একটি আবশ্যিক ধাপ। এই প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি হলে তা সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। ১৫ই মার্চের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোটকর্মীদের নিচের নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:
- নির্ধারিত সময়: সকাল ৭টায় মূল ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে মকপোল প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটায় ভোর ৫:৩০ মিনিটে প্রিজাইডিং অফিসারকে এই কাজ শুরু করতে হবে।
- এজেন্টদের উপস্থিতি ও অপেক্ষা: নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলির পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে এই মকপোল করতে হয়। তবে ভোরবেলায় নির্ধারিত সময়ে যদি কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট উপস্থিত না থাকেন, সেক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপরও কেউ না এলে উপস্থিত সেক্টর অফিসার বা অন্যান্য পোলিং কর্মীদের সামনেই মকপোল শুরু করে দেওয়া যাবে।
- ন্যূনতম ভোটদানের সংখ্যা: ইভিএম যন্ত্রটি যে সঠিক ফলাফল দিচ্ছে তা নিশ্চিত করার জন্য মকপোল চলাকালীন ন্যূনতম ৫০টি ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর কম ভোট দিয়ে মকপোল শেষ করা যাবে না।
- বোতাম যাচাই: ইভিএম-এ থাকা নোটা (NOTA) সহ সব প্রার্থীর বোতাম অন্তত একবার করে টিপে পরীক্ষা করতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে যন্ত্রের প্রতিটি বোতাম সঠিকভাবে কাজ করছে এবং কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নেই।
ভোটগ্রহণের সময়সীমা
গ্রীষ্মের দাবদাহ এবং ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটদানের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।
- ভোট শুরুর সময়: সকাল ৭:০০ মিনিট।
- ভোট শেষের সময়: বিকেল ৬:০০ মিনিট।
উল্লেখ্য এর আগে সাধারণ ক্ষেত্রে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকত। কিন্তু বর্তমান গাইডলাইন অনুযায়ী তা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
ভোট পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং কর্মীদের কর্তব্য
বিকেল ৬টায় ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও পোলিং কর্মীদের দায়িত্ব সেখানেই শেষ হয় না। যদি বিকেল ৬টা বাজার সময় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের কোনো লাইন থাকে, তবে নিয়ম অনুযায়ী সেই লাইনে থাকা শেষ ভোটার পর্যন্ত সকলকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে প্রিজাইডিং অফিসারকে লাইনের একেবারে শেষে থাকা ভোটারের হাতে একটি স্লিপ তুলে দিতে হয় যাতে নতুন করে কেউ ওই লাইনে যুক্ত হতে না পারেন। এই ভোটদান পর্ব সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর পোলিং অফিসারদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে ইভিএম সিল করা, ভিভিপ্যাট সুরক্ষিত করা, ফর্ম ফিলাপ করা এবং সমস্ত নির্বাচনী নথিপত্র সঠিকভাবে গুছিয়ে রিসিভিং সেন্টারে জমা দেওয়া। ভোটকর্মীদের এই নতুন সময়সূচী ও বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা (১৫ মার্চ ২০২৬)