Election Duty: নির্বাচনী ডিউটি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় রদবদল ঘটল। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা নিয়ে যে আইনি জট তৈরি হয়েছিল, তাতে নয়া মোড় এল কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি শম্পা সরকারের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এদিন একক বেঞ্চের আগের রায়ের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। ফলে ভোটের ঠিক আগে স্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন।
আদালত সূত্রে খবর, এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ অধ্যাপকদের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করে দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তড়িঘড়ি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় কমিশন। তাদের স্পষ্ট যুক্তি ছিল, নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে এই নির্দেশ কার্যকর করা কার্যত অসম্ভব। এতে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া বড় ধরণের বিঘ্নের মুখে পড়তে পারে।
সূচিপত্র
আইনি লড়াই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ মনে করছে, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে যদি প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়া করা হয়, তবে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা বা ‘ক্যায়োটিক’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রশাসনিক কাজের গতি বজায় রাখতে এবং ভোটের দিনক্ষণ মাথায় রেখেই আপাতত একক বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না। মামলার পুরোপুরি নিষ্পত্তি না করে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, চূড়ান্ত শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপার বুক তৈরি করতে হবে। পরবর্তী শুনানিতে এই নিয়োগের আইনি বৈধতা এবং কমিশনের পুরনো সার্কুলারগুলো নিয়ে বিস্তারিত কাটাছেঁড়া করবে আদালত।
সরকারি কর্মীদের ওপর প্রভাব
ডিভিশন বেঞ্চের এই নির্দেশের ফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ যারা প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে ডিউটি থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করছিলেন, তাদের আপাতত নিরাশ হতে হচ্ছে। আদালতের এই নির্দেশের পর তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও ডিউটিতে যোগ দিতে হবে।
প্রভাবের মূল দিকগুলি:
- যে সমস্ত অধ্যাপকদের নাম প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকায় রয়েছে বা যারা ইতিপূর্বেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের ডিউটি করা বাধ্যতামূলক।
- পদমর্যাদা এবং বেতনক্রম অনুযায়ী ডিউটি বণ্টনের যে দাবি শিক্ষকরা তুলেছিলেন, তার আইনি ফয়সালা হবে পরবর্তী শুনানিতে।
- নির্বাচনের ঠিক আগে কমিশনের কর্মী সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই নির্দেশে তা সাময়িকভাবে দূর হল।
মুর্শিদাবাদে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা
ভোটের ময়দানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। এবারের নির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা মিলিয়ে মোট ৭১ টি ফ্লাইং স্কোয়াড টিম (FST) এবং ৭৪ টি স্ট্যাটিক সার্ভেলেন্স টিম (SST) নামানো হচ্ছে।
স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অশান্তি রুখতে এই বাহিনী দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। কমিশন সাফ জানিয়েছে, কোথাও কোনও গোলমালের খবর আসা মাত্রই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে এই কুইক রেসপন্স টিমগুলো। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।