Election Duty Update: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ নির্বাচন কমিশন ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরার নিয়ম নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আংশিক পরিবর্তিত নির্দেশিকা জারি করেছে। এর আগে নিয়ম ছিল যে, ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং বিএলও (BLO) সহ সকলকেই সেক্টর অফিসার এসে ক্যামেরা না খোলা পর্যন্ত বুথে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ২৭শে এপ্রিলের নতুন সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, মূল পোলিং পার্টিকে আর এই দীর্ঘ অপেক্ষার সম্মুখীন হতে হবে না। নির্বাচনের দিন ভোটকর্মীদের ওপর এমনিতেই প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ থাকে। সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এই নিয়ম পরিবর্তন রাজ্যের সমস্ত ভোটকর্মীদের জন্য একটি বিশাল স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এসেছে।
সূচিপত্র
কাদের বুথে আর অপেক্ষা করতে হবে না?
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসার, ফার্স্ট পোলিং, সেকেন্ড পোলিং, থার্ড পোলিং অফিসার এবং মাইক্রো অবজারভারদের অবিলম্বে ছুটি দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই যেন পোলিং পার্টি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বিধি মেনে সরাসরি রিসিভিং সেন্টারে ফিরে যেতে পারে। এর ফলে দূরদূরান্তে ডিউটি করতে যাওয়া ভোটকর্মীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর, কারণ তাদের আর অকারণে বুথে আটকে থাকতে হবে না। তারা দ্রুত নিজেদের কাজ সেরে রিসিভিং সেন্টারে রিপোর্ট করতে পারবেন।
ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা পাহারায় থাকবেন কারা?
পোলিং পার্টি বুথ ছাড়ার পর ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরার নিরাপত্তার দায়িত্ব কাদের ওপর বর্তাবে, সে বিষয়েও নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন থেকে নিচের কর্মীদের ওপর এই বিশেষ দায়িত্ব থাকবে:
- বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও
- ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথের কর্মী
- বুথে মোতায়েন থাকা পুলিশ কনস্টেবল
- কিউ ম্যানেজমেন্ট স্টাফ বা লাইন নিয়ন্ত্রক কর্মী
যতক্ষণ না সেক্টর অফিসার নিজে এসে ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাচ্ছেন, ততক্ষণ এই কর্মীদের বুথেই অবস্থান করতে হবে এবং ক্যামেরার দিকে নজর রাখতে হবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সেক্টর অফিসারের ভূমিকা
আগের মতোই সেক্টর অফিসাররা বুথে এসে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা খুলবেন এবং সেই রেকর্ডিংয়ের সমস্ত ডেটা সুরক্ষিতভাবে রিসিভিং সেন্টারে জমা দেবেন। তবে এখন আর তাদের জন্য গোটা পোলিং পার্টিকে বসে থাকতে হবে না। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তারা ভোটকর্মীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত নিয়মের পরিমার্জন করছে।
এই পরিবর্তনের তাৎপর্য
এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের আপামর ভোটকর্মীদের আংশিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সারাদিন ভোটগ্রহণের ক্লান্তির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্যামেরার জন্য বসে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তবে, বিএলও এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীদের জন্য কাজটা কিছুটা ক্লান্তিকর হলেও, নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী পরামর্শ:
- পোলিং পার্টি: ভোট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ইভিএম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সিল করে দ্রুত রিসিভিং সেন্টারের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিন।
- বিএলও এবং অন্যান্য কর্মী: ক্যামেরা খোলার আগে কোনোভাবেই বুথ ত্যাগ করবেন না। সেক্টর অফিসারের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রাখুন যাতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।