Election Duty: ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনার কাজ যাতে নিখুঁত হয় এবং পদ্ধতিগত কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, সেজন্য ভোটকর্মীদের প্রতি এবার একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হলো। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখা আর যান্ত্রিক ভুলত্রুটি কমাতেই এই কড়াকড়ি। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সময় গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছিল। সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির পরেই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।
নতুন এই নির্দেশ অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে ভোটকর্মীদের জন্য এখন থেকে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি বিশেষ ‘লাস্ট মিনিট ব্রিফিং’-এর ব্যবস্থা থাকবে। এখানে ভোট পরিচালনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিক শেষবারের মতো ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন কর্মীরা। প্রশিক্ষণের এই বাড়তি স্তরটি এখন থেকে বাধ্যতামূলক। কমিশনের লক্ষ্য একটাই, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যাতে কোনও প্রিসাইডিং অফিসারকে আইনি বা পদ্ধতিগত জটিলতায় না পড়তে হয়।
সূচিপত্র
প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য কড়া মুচলেকা
কমিশন জানিয়েছে, ব্রিফিং শেষ করেই কাজ মিটবে না। প্রিসাইডিং অফিসারদের এবার একটি লিখিত মুচলেকা বা ডিক্লারেশন জমা দিতে হবে। এই নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে যে, তিনি ‘প্রিসাইডিং অফিসারের কর্তব্য সমূহ’ শীর্ষক নির্দেশিকাটি খুঁটিয়ে পাঠ করেছেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের দিন কমিশনের প্রতিটি নিয়ম ও নির্দেশাবলী যে তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, সেই অঙ্গীকারও করতে হবে তাঁকে।
তবে এই মুচলেকাকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার উপায় নেই। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, সই করা এই কাগজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নথি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের (RO) হেফাজতে সযত্নে রাখা থাকবে। যদি কোনও ভোটকেন্দ্রে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ওঠে, তবে এই মুচলেকার ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট অফিসারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্কের জের
গত রবিবার মধ্যমগ্রামের একটি স্কুলে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ভোটকর্মীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, ব্যালট পেপার দেওয়ার সময় তাতে যথাযথ সিল মারা হয়নি। এমনকি যে ব্যালট বক্সে ভোট জমা নেওয়া হচ্ছিল, তাতেও কোনও সিল বা ট্যাগ ছিল না বলে সরব হন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যালট বক্স সিল না থাকায় ভোটের গোপনীয়তা বলে কিছু ছিল না, যার ফলে কর্মীদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। এর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন এবং ভোট পরিচালনার নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করতে সচেষ্ট হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের ওপর এর প্রভাব
নতুন এই নিয়মের জাঁতাকলে প্রিসাইডিং অফিসারদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল। আগে অনেক ক্ষেত্রে কেবল মৌখিক নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই কাজ সারা হতো। এখন লিখিত মুচলেকা দেওয়ার ফলে কোনও ত্রুটি হলে সরাসরি বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। এর সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো:
- পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা: ২০-৩০ মিনিটের ওই ব্রিফিং সেশনের ফলে কর্মীরা নিজেদের শেষ মুহূর্তের সংশয়গুলো মিটিয়ে নিতে পারবেন।
- আইনি ঝুঁকি: মুচলেকা দেওয়ায় কর্মীরা যেমন কর্তব্যে আরও সজাগ হবেন, তেমনই ছোটখাটো পদ্ধতিগত ভুলেও আইনি গেরোয় পড়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।
- কাজের চাপ: ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হবে। এতে ভোটের আগের দিনের ব্যস্ততা ও ধকল দুই-ই বাড়বে।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কঠোর অবস্থান বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।