Income Tax Rules: ১ এপ্রিল থেকে বদলে যাচ্ছে ইনকাম ট্যাক্সের একগুচ্ছ নিয়ম, আপনার পকেটে কতটা প্রভাব পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিত
Income Tax Rules: আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে শুরু হতে চলেছে নতুন অর্থবর্ষ (২০২৬-২৭)। এই দিন থেকেই কার্যকর হবে ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫’। এর ফলে আয়কর, বিনিয়োগ, টিডিএস (TDS) এবং কর্পোরেট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে চলেছে। সাধারণ চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এবং শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারী—সকলের পকেটেই এই নতুন নিয়মগুলির প্রভাব পড়বে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আয়ের উৎস ও খরচের ওপর ভিত্তি করে কোথায় কোথায় বদল আসছে।
শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন নিয়ম
বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু বড় রদবদল আনা হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার বাইব্যাক এবং এসটিটি (STT)-র পরিবর্তন অন্যতম।
- শেয়ার বাইব্যাক (Share Buyback): এতদিন কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক করলে সেখান থেকে হওয়া আয়কে ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করা হতো এবং সেই অনুযায়ী স্ল্যাব মেনে ট্যাক্স দিতে হতো। কিন্তু ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে এই আয়কে ‘ক্যাপিটাল গেইন’ বা মূলধনী লাভ হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ, শেয়ার কেনা এবং বিক্রি করার মাঝে যে লাভ হবে, তার ওপর ভিত্তি করে ট্যাক্স গণনা করা হবে।
- এসটিটি বৃদ্ধি (Increased STT): ফিউচার্স ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) ০.০২% থেকে বাড়িয়ে ০.০৫% করা হয়েছে। অন্যদিকে, অপশন ট্রেডারদের জন্যও খরচ বাড়ছে, কারণ প্রিমিয়ামের ওপর STT ০.১০% থেকে বাড়িয়ে ০.১৫% করার প্রস্তাব রয়েছে।
- মিউচুয়াল ফান্ড ও ডিভিডেন্ড: ঋণ নিয়ে বা লোন করে মিউচুয়াল ফান্ডে বা শেয়ারে বিনিয়োগ করলে, আগে সুদের ওপর যে কর ছাড় বা ডিডাকশন পাওয়া যেত, নতুন নিয়মে তা আর পাওয়া যাবে না।
সোনা ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ
সভরেন গোল্ড বন্ড (SGB) এবং অনাবাসী ভারতীয়দের (NRI) থেকে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও নিয়মে সরলীকরণ করা হয়েছে।
- SGB-তে কর ছাড়ের শর্ত: এবার থেকে শুধুমাত্র সরকারের কাছ থেকে সরাসরি কেনা গোল্ড বন্ডেই কর ছাড় পাওয়া যাবে। সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে কিনলে মেয়াদ শেষে রিডেম্পশনের সময় ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। করমুক্ত রিটার্ন পেতে হলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
- এনআরআই-দের থেকে সম্পত্তি ক্রয়: অনাবাসী ভারতীয়দের থেকে সম্পত্তি কেনার সময় ক্রেতাকে টিডিএস (TDS) কাটার জন্য আর ‘TAN’ নম্বরের প্রয়োজন হবে না। শুধুমাত্র প্যান (PAN) কার্ড ব্যবহার করেই টিডিএস জমা দেওয়া যাবে, যা প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ করে তুলবে।
বিদেশ ভ্রমণ ও চিকিৎসায় স্বস্তি
লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (LRS)-এর আওতায় বিদেশে খরচের ওপর টিসিএস (TCS)-এর হার কমানো হয়েছে।
- বিদেশি ট্যুর প্যাকেজ, বিদেশের শিক্ষা এবং চিকিৎসার খরচের ওপর টিসিএস ৫% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রী এবং পর্যটকদের খরচ কিছুটা কমবে।
আইটিআর (ITR) ফাইলিং ও অন্যান্য সুবিধা
করদাতাদের সুবিধার্থে আইটিআর ফাইলিং এবং টিডিএস ডিক্লারেশনের নিয়মেও বদল আনা হয়েছে।
- একক ডিক্লারেশন: বিভিন্ন আয়ের জন্য বারবার আলাদা ফর্ম জমা দেওয়ার ঝক্কি আর থাকছে না। মিউচুয়াল ফান্ড, ডিভিডেন্ড বা বন্ড—সবকিছুর জন্য একটি মাত্র ডিক্লারেশন দিলেই টিডিএস এড়ানো যাবে।
- আইটিআর-এর সময়সীমা: অডিট প্রয়োজন নেই এমন ব্যবসা এবং ট্রাস্টের ক্ষেত্রে আইটিআর জমার সময়সীমা ৩১ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে। রিভাইজড রিটার্ন জমার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছে। তবে সাধারণ চাকুরিজীবীদের জন্য ৩১ জুলাইয়ের সময়সীমাই বহাল থাকছে।
- ম্যাক্ট (MACT) ও পেনশন: মোটর অ্যাকসিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের সুদের ওপর কোনো ট্যাক্স লাগবে না। এছাড়া সেনাবাহিনীর কর্তব্যরত অবস্থায় আহত কর্মীদের ডিসএবিলিটি পেনশন সম্পূর্ণ করমুক্ত করা হয়েছে।
ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। কোনো প্রকার আর্থিক সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই একজন যোগ্য কর বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।