টাকা-পয়সা

পুজোর আগে কৃষকবন্ধুর টাকা, ১৫ লক্ষ নাম বাতিল

Krishak Bandhu Payment Update
Krishak Bandhu Payment Update

এক নজরে

  • কৃষকবন্ধু প্রকল্পের তালিকা থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ ভুয়া নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কারণ ও পদ্ধতি জেনে নিন।
  • পিএম কিসান প্রকল্পে সক্রিয় থাকলে এবার আর কৃষকবন্ধুর টাকা মিলবে না, কীভাবে বুঝবেন আপনার স্ট্যাটাস।
  • নতুন কাঠামোয় জমির পরিমাণ অনুযায়ী বার্ষিক সহায়তা কমে বা বাড়ছে, পুরনো ও নতুন হারের তুলনামূলক হিসাব দেখুন।
  • দুর্গাপূজার আগে টাকা ঢোকার সম্ভাব্য সময়সীমা এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের ডেডলাইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
  • পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক কেন বন্ধ আছে এবং কবে থেকে ফের চালু হবে, পুরো তথ্য পড়ুন এই প্রতিবেদনে।

নবান্নের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ ভুয়া নাম বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে যোগ্য কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুর্গাপূজার আগেই আর্থিক সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানিয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি।

সূচিপত্র

কেন বাদ পড়ছে ১৫ লক্ষ নাম

কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল দায়িত্বে আসার পরই কৃষকবন্ধু ও বাংলা শস্য বীমা প্রকল্পের তালিকা খুঁটিয়ে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর সেই যাচাইয়ের সূত্র ধরেই সামনে এসেছে একের পর এক গরমিল।

  • অকৃষক ও চাকুরিজীবী ব্যক্তিরাও এতদিন টাকা তুলছিলেন
  • জমি বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরও পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে সুবিধা চালু থেকে গিয়েছিল
  • একই পরিবারের একাধিক সদস্য আলাদা আলাদাভাবে টাকা পাচ্ছিলেন
  • নতুন ভেরিফিকেশন ফর্ম জমা দিতে গিয়েই মূলত এই গরমিলগুলো ধরা পড়ে

এতদিন উপভোক্তার সংখ্যা ছিল এক কোটির কিছুটা বেশি। যাচাই-বাছাইয়ের পর সেখান থেকেই এবার বাদ পড়ছে প্রায় ১৫ লক্ষ নাম।

Advertisement

পিএম কিসান ও কৃষকবন্ধু আর একসঙ্গে নয়

রাজ্যের প্রায় ৪৫ লক্ষ কৃষক কেন্দ্রের পিএম কিসান প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। আগে এঁরা কৃষকবন্ধুর টাকাও আলাদাভাবে পেয়ে যেতেন। কিন্তু এখন পোর্টালে “Present in PM Kisan” স্ট্যাটাস দেখালেই কৃষকবন্ধু তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা পিএম কিসানের শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের আনা হচ্ছে রাজ্যের নিজস্ব একটি কাঠামোয়, যাকে আপাতত বলা হচ্ছে ‘কৃষকবন্ধু নতুন’। এই তালিকায় থাকবেন প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ লক্ষ কৃষক। দুই প্রকল্প মিলিয়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৮৫ লক্ষ কৃষককে আওতাভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার।

নতুন হার ও হিসাব

ক্যাটাগরিবর্তমান সহায়তাআগের সহায়তা
৪০ শতকের কম জমিবার্ষিক এককালীন ₹৪,০০০₹২,০০০+₹২,০০০ কিস্তিতে ₹৪,০০০
৪০ শতকের বেশি জমিবার্ষিক এককালীন ₹৬,০০০₹৫,০০০+₹৫,০০০ কিস্তিতে ₹১০,০০০
পিএম কিসান উপভোক্তাকেন্দ্রের ₹৬,০০০ + রাজ্যের ₹৩,০০০ = ₹৯,০০০কেন্দ্রের ₹৬,০০০ আলাদাভাবে, কৃষকবন্ধুর ₹৪,০০০–₹১০,০০০ আলাদাভাবে

প্রভাব: আপনার পকেটে আসলে কী বদলাচ্ছে

যাঁদের জমি ৪০ শতকের কম আর যাঁরা শুধু কৃষকবন্ধুর সুবিধাই পান, তাঁদের বার্ষিক টাকার অঙ্কে কোনো হেরফের হচ্ছে না। তফাত শুধু এটুকুই আগে দুটি কিস্তিতে টাকা আসত, এখন সেটা একবারেই ₹৪,০০০ হিসেবে ঢুকবে। কিন্তু যাঁদের জমি ৪০ শতকের বেশি, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তন সরাসরি ধাক্কার মতোই। কারণ আগের ₹১০,০০০ এখন নেমে দাঁড়াচ্ছে ₹৬,০০০-এ, মানে বছরে ₹৪,০০০ কম পাবেন তাঁরা।

আসল হিসাবটা জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাঁদের ক্ষেত্রে, যাঁরা আগে পিএম কিসান আর কৃষকবন্ধু দুটোই পেতেন। ৪০ শতকের বেশি জমি থাকলে আগে তাঁরা পেতেন ₹৬,০০০ (কেন্দ্র) + ₹১০,০০০ (রাজ্য), অর্থাৎ মোট ₹১৬,০০০। এখন সেটাই কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ₹৯,০০০-এ বছরে ₹৭,০০০ টাকার ফারাক। আর ৪০ শতকের কম জমির দ্বৈত সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও ₹১০,০০০ থেকে কমে হচ্ছে ₹৯,০০০। এই হিসাবটা একবার বুঝে নিলে নিজেই আন্দাজ করে নিতে পারবেন, এবার আপনার অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা ঢুকবে।

টাকা কবে ঢুকবে, পোর্টাল কেন বন্ধ

নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপভোক্তার নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। এই যাচাই-পর্ব মিটলেই পুজোর আগে টাকা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে অফিশিয়াল পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করার সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, কারণ ডাটাবেজ সংশোধনের কাজ চলছে পুরোদমে। সেপ্টেম্বরের এই যাচাই পর্ব শেষ হলেই পোর্টাল ফের চালু হবে, তখন নিজের তথ্য দিয়ে স্ট্যাটাস দেখে নেওয়া যাবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>