পশ্চিমবঙ্গ

Krishak Bandhu Status: কৃষক বন্ধুর টাকা কি আটকে গেল? জেনে নিন লেটেস্ট আপডেট ও স্ট্যাটাস চেকিং পদ্ধতি

Krishak Bandhu Payment Update
Krishak Bandhu Payment Update

Krishak Bandhu Status: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের কৃষকদের মধ্যে বর্তমানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের আওতায় অনুদান প্রদানের ঘোষণা করার পরেও বহু উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এখনো পর্যন্ত টাকা জমা পড়েনি। স্বাভাবিকভাবেই, ফসলের মরসুমে টাকার অপেক্ষায় থাকা কৃষকদের মনে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। কেন এই দেরি এবং টাকা আদৌ পাওয়া যাবে কি না, সেই বিষয়গুলো ধাপে ধাপে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

সূচিপত্র

টাকা না ঢোকার কারণ ও ট্রেজারি ব্যবস্থা

অনেকে মনে করেন, পিএম কিষান (PM Kisan) সম্মান নিধি যোজনার মতো কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকাও সরাসরি ডিবিটি (DBT) বা আধার কার্ডের মাধ্যমে পাঠানো হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। এই প্রকল্পের অর্থবণ্টন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের ‘ট্রেজারি’ বা কোষাগারের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি জেলার জন্য পৃথক ট্রেজারি অফিস থাকে এবং সেখান থেকেই ফান্ড রিলিজ করা হয়।

টাকা ঢুকতে দেরি হওয়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে:

  • ট্রেজারি ক্লিয়ারেন্স: যেহেতু প্রতিটি জেলার ট্রেজারি আলাদা, তাই সব জেলায় একসাথে টাকা ঢোকে না। উদাহরণস্বরূপ, যদি পুরুলিয়া জেলার ট্রেজারি আজ টাকা রিলিজ করে, তার মানে এই নয় যে একই দিনে বাঁকুড়া বা হুগলির কৃষকরাও টাকা পাবেন। এটি একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া।
  • টানা সরকারি ছুটি: টাকা ঘোষণার ঠিক পরেই রাজ্যে একাধিক সরকারি ছুটি ছিল। শনি ও রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে যুক্ত হয়েছিল সোমবারের স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীর ছুটি। টানা তিন দিন ব্যাংক এবং সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকার ফলে অফিশিয়াল কাজকর্মে বড়সড় বিরতি পড়েছে, যা পেমেন্ট প্রসেসিংয়ে ধীরগতি এনেছে।
Advertisement

কবে টাকা একাউন্টে ঢুকবে?

টানা ছুটির পর মঙ্গলবার থেকে পুনরায় সরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলির কাজকর্ম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, আজ বিকেলের পর থেকেই বিভিন্ন জেলার ট্রেজারি থেকে ফান্ড রিলিজ করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে এখানেও একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। সামনেই পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ উপলক্ষে যদি কোনো স্থানীয় বা আংশিক ছুটি থাকে, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে টাকা ঢুকতে আরো ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

মোটের ওপর, যদি আপনার সমস্ত নথিপত্র ঠিক থাকে, তবে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনি টাকা পাবেন তো? নিশ্চিত হন নিজেই

টাকা দেরিতে ঢুকলে সমস্যা নেই, কিন্তু আপনার আবেদনের স্থিতি বা স্ট্যাটাস ঠিক আছে কি না, তা জানা সবথেকে জরুরি। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী খুব সহজেই আপনি মোবাইল থেকে এটি যাচাই করতে পারেন।

স্ট্যাটাস চেক করার সহজ ধাপ:

১. প্রথমে গুগলে গিয়ে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করুন।
২. হোমপেজে থাকা “নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য” অপশনটি খুঁজে বের করে ক্লিক করুন।
৩. এরপর আপনার সুবিধামতো ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বা ব্যাংক একাউন্ট নাম্বারের যেকোনো একটি বেছে নিন।
৪. সঠিক নম্বরটি বসিয়ে ক্যাপচা (I am not a robot) ভেরিফাই করে ‘Search’ বাটনে ক্লিক করুন।

‘Transaction Status’-এর গুরুত্ব

সার্চ করার পর আপনার নামের পাশে ‘Transaction Status’ ঘরটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। এটিই আপনার টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে।

  • Account Valid: যদি দেখেন লেখা আছে ‘Account Valid’, তবে নিশ্চিন্ত থাকুন। এর অর্থ আপনার ব্যাংক একাউন্ট এবং নথিপত্র সরকারের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছেছে। আজ বা কাল, টাকা আপনি ১০০% পাবেন।
  • অন্যান্য স্ট্যাটাস: যদি ‘Account Valid’ কথাটি না থাকে বা অন্য কোনো এরর (Error) দেখায়, তবে বুঝতে হবে আপনার ফর্মে বা ব্যাংক ডিটেলসে কোনো সমস্যা আছে। সেক্ষেত্রে টাকা পেতে অসুবিধা হতে পারে এবং দ্রুত কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে।

যাদের স্ট্যাটাস ঠিক আছে এবং বিগত বছরগুলোতে নিয়মিত টাকা পেয়েছেন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ব্যাঙ্কিং সার্ভার ও ট্রেজারি প্রসেস সম্পন্ন হলেই মোবাইলে মেসেজ চলে আসবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>