জনগণনার (সেনসাস) কাজের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে মাধ্যমিক 2027 পরীক্ষা 2 মার্চ থেকে 16 মার্চ 2027 করার একটি খসড়া প্রস্তাব স্কুলশিক্ষা কমিশনারের কাছে পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। আগের সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল 15 থেকে 25 ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এটি এখনও খসড়া প্রস্তাব; স্কুলশিক্ষা দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।
সূচিপত্র
কেন সূচি বদলের প্রস্তাব
- মাধ্যমিকের আগের নির্ধারিত সময়ে (15–25 ফেব্রুয়ারি) রাজ্যে জনগণনার কাজ চলার কথা।
- ওই কাজে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটি বড় অংশকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
- একই সময়ে রাজ্যব্যাপী মাধ্যমিক পরীক্ষা ও জনগণনা চালাতে গেলে শিক্ষক ও প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের সমস্যার আশঙ্কা।
- সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পর্ষদ সভাপতি লালু দাস পরিবর্তিত সূচির প্রস্তাব কমিশনারের কাছে জমা দিয়েছেন।
মাধ্যমিক 2027: প্রস্তাবিত খসড়া সূচি
| তারিখ | বার | বিষয় |
|---|---|---|
| 2 মার্চ 2027 | মঙ্গলবার | প্রথম ভাষা |
| 3 মার্চ 2027 | বুধবার | দ্বিতীয় ভাষা |
| 5 মার্চ 2027 | শুক্রবার | ইতিহাস |
| 8 মার্চ 2027 | সোমবার | ভূগোল |
| 12 মার্চ 2027 | শুক্রবার | গণিত |
| 13 মার্চ 2027 | শনিবার | ভৌতবিজ্ঞান |
| 15 মার্চ 2027 | সোমবার | জীবনবিজ্ঞান |
| 16 মার্চ 2027 | মঙ্গলবার | ঐচ্ছিক বিষয় |
সংগীত, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও বৃত্তিমূলক বিষয়ের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় পরে জানাবে পর্ষদ।
কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী
পরীক্ষা সরলে যে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা জনগণনার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের স্কুলের পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব (ইনভিজিলেশন, কেন্দ্র পরিচালনা, খাতা দেখা) ও জনগণনার কাজ আলাদা সময়ে সামলানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এখনই সূচি ধরে ছুটি বা ডিউটির পরিকল্পনা পাকা করবেন না। চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি আসা পর্যন্ত স্কুলের প্রধানশিক্ষক ও পর্ষদের নির্দেশই চূড়ান্ত।
- কারা প্রভাবিত: মাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটিতে থাকা এবং একই সঙ্গে জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
- কী করবেন: নিজের স্কুল ও জেলা প্রশাসনের লিখিত নির্দেশ দেখুন; খসড়া সূচি ধরে ব্যক্তিগত কর্মসূচি বদলাবেন না।
- কবে নিশ্চিত হবে: স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন ও পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর। সেই তারিখ এখনও জানা যায়নি।
শিক্ষক মহলের প্রতিক্রিয়া ও পরীক্ষার্থীদের জন্য
সূচি বদলের সম্ভাবনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী-সহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাংশের মত, আকস্মিক রুটিন বদলে পরীক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতিতে চাপ পড়তে পারে; তাঁদের মতে পরীক্ষার সূচি অপরিবর্তিত রেখে জনগণনার দিন বা শিক্ষকদের দায়িত্বে সমন্বয় ঘটানো বেশি যুক্তিযুক্ত হতো।
পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ: চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত স্বাভাবিক পড়াশোনা চালিয়ে যান। সূচি সরলে হাতে যে বাড়তি সময় থাকবে, তা রিভিশনে লাগান।
এখনও কী জানা যায়নি
- স্কুলশিক্ষা দপ্তর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কি না, এবং কবে করবে।
- অনুমোদন হলে পর্ষদের বিজ্ঞপ্তির নম্বর ও তারিখ।
- প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার তারিখ।
- পরীক্ষার সময় ও রুটিনের চূড়ান্ত বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস বদলাবে কি না।
চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হলে এই লেখা হালনাগাদ করা হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
মাধ্যমিক 2027 পরীক্ষা কি সত্যিই পিছিয়ে গেল?
না, এখনও নিশ্চিত নয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ 2–16 মার্চ 2027 সূচির একটি খসড়া প্রস্তাব স্কুলশিক্ষা কমিশনারের কাছে পাঠিয়েছে; চূড়ান্ত অনুমোদন বাকি।
আগের নির্ধারিত সূচি কী ছিল?
পূর্বনির্ধারিত সূচিতে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল 15 থেকে 25 ফেব্রুয়ারি 2027-এর মধ্যে।
সূচি বদলের প্রস্তাব কেন?
ওই সময়ে জনগণনার কাজ চলার কথা, যাতে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বড় অংশের দায়িত্ব থাকবে। দুই কাজের সংঘাত এড়াতেই প্রস্তাব।
প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা কবে?
সংগীত, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও বৃত্তিমূলক বিষয়ের প্র্যাকটিক্যালের তারিখ পরে জানাবে পর্ষদ।









