নির্দেশিকা

Postal Ballot Facilities: ডিসি-তেও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা, ভোটকর্মীদের জন্য সিইও-র নতুন নির্দেশিকা জারি

Postal Ballot ECI Election
Postal Ballot ECI Election

এক নজরে

  • ভোট কর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুবিধার্থে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা।
  • পোস্টাল ব্যালট ফেসিলিটেশন সেন্টারে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ।
  • পি-৩ থেকে পি-১ দিন পর্যন্ত এবং ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারেও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ।
  • ২৯শে এপ্রিলের ভোটের জন্য প্রতি ৫০ থেকে ৬০ জন ভোটারের জন্য একটি করে ভোটিং কম্পার্টমেন্ট বাধ্যতামূলক।
  • নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ।

Postal Ballot Facilities: নির্বাচনে ডিউটি করতে গিয়ে নিজেদের ভোটটুকু দিতেই নাজেহাল হতে হচ্ছিল সরকারি কর্মীদের। ভোটকর্মীদের সেই ভোগান্তি মেটাতে এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। গত ১৭ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই মর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেমো (No. 5347 (24) – Home (Elec)) প্রতিটি জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ আসছিল ভুরি ভুরি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভোটকর্মীরা জানাচ্ছিলেন, পোস্টাল ব্যালট ফেসিলিটেশন সেন্টারগুলিতে ন্যূনতম পরিকাঠামোটুকু নেই। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানি তো আছেই, সেই সঙ্গে অব্যবস্থার কারণে অনেকেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছিলেন না। এই প্রেক্ষাপটেই সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূচিপত্র

ফেসিলিটেশন সেন্টারে একগুচ্ছ রদবদল

কমিশনের নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, বরং পি-৩ (ভোটের ৩ দিন আগে) থেকে পি-১ (ভোটের ১ দিন আগে) পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার বা ডিসি-তেও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। লক্ষ্য একটাই- ডিউটির চাপে যেন কোনো কর্মী ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হন।

তবে এই নির্দেশ নতুন কিছু নয়। গত ১৭ই মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা ৩০১০- হোম (ইলেক) মেমো-র ৭ এবং ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছিল, তা কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। ফেসিলিটেশন সেন্টারগুলিতে ভিড় সামলাতে পরিকল্পনা আরও নিঁখুত করার কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

২৯শে এপ্রিলের ভোটের জন্য কড়া নিয়ম

আগামী ২৯শে এপ্রিল রাজ্যের যে সব এলাকায় ভোট রয়েছে, সেখানকার জন্য আলাদা করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণের শেষ দিন বা মপ-আপ ডের দিন ফেসিলিটেশন সেন্টারে যাতে লম্বা লাইন না পড়ে, তার জন্য বিশেষ অনুপাত বেঁধে দিয়েছে কমিশন। প্রতি ৫০ থেকে ৬০ জন ভোটারের জন্য অন্তত একটি করে ভোটিং কম্পার্টমেন্ট বা গোপন কক্ষ তৈরি করতে হবে।

এর ফলে ভোটকর্মীরা দ্রুত ভোট দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন। তবে শুধু ভোটদানই নয়, সেন্টারে পর্যাপ্ত আলো, পানীয় জল এবং বসার জায়গার মতো বুনিয়াদি সুবিধাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

কড়া নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা

পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা নিয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট বক্সগুলি যাতে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে এবং কোনোভাবেই যাতে কেউ কারচুপি করতে না পারে, তার দায়ভার সরাসরি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

এদিকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি ফেসিলিটেশন সেন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও মোতায়েন থাকবেন। কমিশনের আশা, এই কড়াকড়ির ফলে গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

স্বস্তিতে কয়েক লক্ষ কর্মী

এই নতুন নির্দেশিকার ফলে সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও ভোটকর্মী। আগে প্রায়ই দেখা যেত, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিশৃঙ্খলা বা স্রেফ পরিকাঠামোর অভাবে অনেকেই ভোট দেওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলতেন। এবার ভোটিং কম্পার্টমেন্টের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোটের মতো গুরুদায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি এখন কর্মীরা অনেক বেশি সুস্থ পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই এতে নির্বাচনের সামগ্রিক ভোটদানের হারও কিছুটা বাড়বে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>