সরকারি কর্মচারী

ROPA 2019 Case: রোপা ২০১৯ মামলার শুনানি, DA ও HRA বৈষম্য দূর করতে হাইকোর্টে নতুন শুনানি

Calcutta High Court With Gavel
Calcutta High Court With Gavel

এক নজরে

  • রোপা ২০১৯ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ তারিখ সোমবার ধার্য করা হয়েছে।
  • ডিএ-র উল্লেখ না থাকা এবং এইচআরএ ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করার চ্যালেঞ্জ।
  • প্রায় ৪৮ মাসের বকেয়া বর্ধিত বেতন বা এনহ্যান্সড স্যালারির দাবি জানানো হয়েছে।
  • বঙ্গভবন ও চেন্নাইয়ে কর্মরত কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের ডিএ ও এইচআরএ বৈষম্যের অভিযোগ।
  • গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মীদেরও এই আইনি লড়াইয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে মামলাকারীদের।

ROPA 2019 Case: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংশোধিত বেতন কাঠামো বা রোপা ২০১৯ নিয়ে আইনি লড়াই এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে। কলকাতা হাইকোর্টে শ্রী দেবপ্রসাদ হালদারের দায়ের করা এই মামলার দিকে এখন তাকিয়ে আছেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ কর্মচারী। আদালতের একটি নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আর্থিক পাওনা।

সূচিপত্র

আদালতের বর্তমান চিত্র ও পরবর্তী শুনানি

বিচারপতি মধুমতি মিত্র এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। কজ লিস্টের দুই নম্বরে থাকার কারণে মনে করা হয়েছিল আজ বড় কোনো মোড় আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত শুনানি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী এদিন ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথা জানিয়ে আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারপতিরা তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে এখন সবার নজর আগামী সোমবার অর্থাৎ ২৭ তারিখের দিকে, সেদিনই ধার্য হয়েছে পরবর্তী শুনানির দিন।

Advertisement

রোপা ২০১৯ নিয়ে কেন এত ক্ষোভ?

রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এই নতুন বেতন বিধির বেশ কিছু ধারায় মৌলিক ত্রুটি দেখছেন। তাঁদের প্রধান অভিযোগ হলো, নতুন এই রোপা বিধিতে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে কোনো স্পষ্ট নীতি বা উল্লেখ রাখা হয়নি। কর্মীদের মতে, এটি তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তার পরিপন্থী।

পাশাপাশি, বাড়ি ভাড়া ভাতা বা এইচআরএ (HRA) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করার সিদ্ধান্তটিও বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর রয়েছে বকেয়া বেতনের দাবি। পে-কমিশনের সুপারিশ মেনে প্রায় ৪৮ মাসের বর্ধিত বেতন বা এরিয়ার এখনো মেটায়নি সরকার, যা মামলাকারীদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

ভাতার বৈষম্য ও বঙ্গভবন প্রসঙ্গ

মামলায় ভাতার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একই রাজ্যের কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও বঙ্গভবন বা চেন্নাইয়ে কর্মরত কর্মীরা বর্তমানে ৩০ শতাংশ HRA পাচ্ছেন। এমনকি ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাঁরা ১৬৪ শতাংশ হারে ডিএ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজ্যের সাধারণ কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ডিএ-র ফারাক এখন পাহাড়প্রমাণ—প্রায় ৪২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এই বিশাল বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতেই আইনি লড়াই লড়ছেন কর্মীরা।

গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মীদের অবস্থান

এই মামলাটি মূলত সরকারি কর্মীদের স্বার্থে হলেও এর আওতা বাড়ছে। গ্র্যান্ট-ইন-এইড বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মীদেরও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার তোড়জোড় চলছে। বর্তমানে আদালতের অর্ডারশিটে সরাসরি তাঁদের নাম না থাকলেও, মামলাকারীরা জানিয়েছেন খুব শীঘ্রই সাপ্লিমেন্টারি এফিডেভিট জমা দেওয়া হবে। বিশেষ করে এই কর্মীদের জন্য সরকারের সাম্প্রতিক একটি সার্কুলারকে আইনি ঢাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

কর্মীদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব

যদি আদালত শেষ পর্যন্ত কর্মচারীদের পক্ষে রায় দেয়, তবে রাজ্য প্রশাসনের কাঠামোয় এক বিশাল পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের বকেয়া এরিয়ার বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা এককালীন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এছাড়া বাড়ি ভাড়া ভাতা পুনরায় ১৫ শতাংশে ফিরলে প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণও একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। মূলত স্বচ্ছ বেতন নীতি প্রতিষ্ঠাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

শেষ মুহূর্তের আপডেট

সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম বলছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২৬ সালের বাজেটে মহার্ঘ ভাতা বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এটি কেন্দ্রীয় হারের চেয়ে অনেক কম। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। এই আবহে আগামী ২৭ তারিখ কলকাতা হাইকোর্টের শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>