সরকারি কর্মচারী

SAT Tribunal Crisis: অচল স্যাট, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ফিরদৌস শামীম

Firdous Samim On Sat
Firdous Samim On Sat

SAT Tribunal Crisis: রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের আইনি সুরক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল ‘স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল’ বা স্যাট (SAT)-এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ফিরদৌস শামীম। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকল্পনামাফিক অকেজো করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মীরা ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে পুলিশ নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিচ্ছে।

সূচিপত্র

স্যাট (SAT)-এর অচলাবস্থা: বিচারব্যবস্থায় সংকট

আইনজীবী ফিরদৌস শামীমের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল কার্যত অভিভাবকহীন। সরকারি কর্মীদের চাকরির শর্তাবলী, বকেয়া ডিএ বা অন্যান্য আইনি জটিলতার সমাধানের জন্য এটিই হলো প্রাথমিক আদালত বা ‘কোর্ট অফ ফার্স্ট ইনস্ট্যান্স’। কিন্তু বিচারক ও প্রশাসনিক সদস্যদের অভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ধুঁকছে।

  • সদস্য শূন্যতা: ২০২৩ সাল থেকে এই ট্রাইব্যুনালে কোনো জুডিশিয়াল মেম্বার বা বিচারক নেই। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন সর্বশেষ প্রশাসনিক সদস্য বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ মেম্বারও অবসর গ্রহণ করেন। ফলে বর্তমানে বেঞ্চ গঠন করার মতো কেউ নেই।
  • মামলার পাহাড়: বিচারক না থাকায় হাজার হাজার মামলা অনিষ্পত্তিকৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শামীমের কথায়, বর্তমানে স্যাট কেবল একটি “মামলা জমা নেওয়ার কাউন্টারে” পরিণত হয়েছে, যেখানে বিচারের কোনো সুযোগ নেই।
Advertisement

সরকারের ভূমিকা ও আইনি প্রেক্ষাপট

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এল. চন্দ্রকুমার (L. Chandra Kumar) মামলার রায় উল্লেখ করে আইনজীবী শামীম জানান, ট্রাইব্যুনাল থেকে জুডিশিয়াল রিভিউ সংবিধানের মূল কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু রাজ্য সরকার এই সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তাঁর মতে, সরকার জেনেশুনেই ট্রাইব্যুনালকে অচল করে রেখেছে। কারণ, নিয়মিত শুনানি হলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতির চিত্র আদালতের সামনে উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সদস্য নিয়োগে গড়িমসি করে সরকার কার্যত এই প্রতিষ্ঠানটিকে “গলা টিপে মারার” চেষ্টা করছে। এর ফলে ভুক্তভোগী কর্মীদের বাধ্য হয়ে জরুরি ভিত্তিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়সাপেক্ষ।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব

শুধু ট্রাইব্যুনাল নয়, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ফিরদৌস শামীম। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বালাই নেই।

  1. নম্বর গোপন: পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর (Marks) প্রকাশ করা হয়নি, যা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
  2. তালিকা প্রকাশে অনীহা: কোন ক্যাটাগরিতে কতজনকে পরবর্তী ধাপের জন্য (ইন্টারভিউ বা পিইটি-পিএমটি) ডাকা হয়েছে, তার কোনো বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি।
  3. তথ্য গোপনের অভিযোগ: শুধুমাত্র রোল নম্বর প্রকাশ করে দায় সারা হয়েছে। শামীমের মতে, এটি বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতির একটি “স্বাভাবিক” লক্ষণে পরিণত হয়েছে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাঁচানোর ডাক

আইনজীবী ফিরদৌস শামীম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার এক অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে তিনি আইনজীবী মহল, সরকারি কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিচারব্যবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাঁচাতে এখনই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>