[New] 2016 থেকে 2019 পর্যন্ত বকেয়া ডিএ ক্যালকুলেটর

Calculate Now!
advertisement
পশ্চিমবঙ্গ

SIR Hearing: রাজ্যে আজ থেকে শুরু ভোটার শুনানি! ৩১ লক্ষ মানুষের নথি যাচাই, জানুন কী কী কাগজ লাগবে

SIR Hearing: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো আজ, শনিবার থেকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই একযোগে শুরু হচ্ছে ভোটারদের শুনানি পর্ব বা হিয়ারিং। বিশেষ করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যে সমস্ত ভোটারদের তথ্যের কোনো মিল বা ‘ম্যাপিং’ খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই বিশেষ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৪ জন ভোটারকে এই প্রথম পর্বের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে পৌঁছে গেছে শুনানির নোটিস।

advertisement

শুনানির পরিকাঠামো ও নিয়মাবলী

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুই বা ততোধিক শুনানিকেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে ১১টি করে টেবিল পাতা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন নির্বাচনী আধিকারিক (ইআরও) এবং ১০ জন সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক (এইআরও) উপস্থিত থাকবেন, যাঁদের ওপর শুনানির মূল দায়িত্ব ন্যস্ত। এছাড়াও, গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালানোর জন্য ১১ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিযুক্ত থাকবেন।

কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শুনানিকক্ষে বাইরের কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না। শুধুমাত্র বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) এবং অনুমতি সাপেক্ষে বিএলও সুপারভাইজ়াররা উপস্থিত থাকতে পারবেন। প্রতিটি টেবিলে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুনানি চলাকালীন প্রত্যেক ভোটারের ছবি তোলা হবে এবং তা সরাসরি কমিশনের কাছে পাঠানো হবে।

শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় নথি

ভোটার হিসেবে নিজেদের বৈধতা প্রমাণের জন্য কমিশন মোট ১৩টি নথির তালিকা প্রকাশ করেছে। শুনানিতে আসা ভোটারদের এর মধ্যে যেকোনো একটি নথি পেশ করতে হবে। তবে ‘সন্দেহজনক’ বা ‘নো-ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একাধিক নথিও চাওয়া হতে পারে। গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় রয়েছে:

advertisement
  • কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের চাকরির পরিচয়পত্র অথবা পেনশনের নথি।
  • ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ইস্যু করা ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যেকোনো নথি।
  • জন্ম শংসাপত্র।
  • পাসপোর্ট।
  • মাধ্যমিক বা তার ওপরের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র।
  • রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র।
  • ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
  • জাতিগত শংসাপত্র।
  • ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেনস (এনআরসি)-র নথি (যদি থাকে)।
  • স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার।
  • জমি অথবা বাড়ির দলিল।

এছাড়াও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সিএএ (CAA) শংসাপত্র থাকলে তা দেখিয়েও ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে। সেক্ষেত্রে ফর্ম-৬ পূরণ করতে হবে।

অন্যান্য ভোটারদের যাচাই প্রক্রিয়া

ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার এটি দ্বিতীয় ধাপ। প্রথম ধাপে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এবার ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। ৩১ লক্ষেরও বেশি ‘আনম্যাপড’ ভোটার ছাড়াও রাজ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের এনুমারেশন ফর্মের তথ্যে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে। তবে তাঁদের এখনই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই তথ্য যাচাই করবেন। বিএলও যদি তথ্যে সন্তুষ্ট হন, তবে তিনি নিজেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার সুপারিশ করবেন। অন্যথায়, তিনিও কমিশনের কাছে ওই ভোটারের শুনানির জন্য সুপারিশ করতে পারেন।

রাজ্যজুড়ে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না পড়ে এবং একইসঙ্গে ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background… More »
Back to top button