চাকরি

SLST Recruitment EWS: SLST চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ! EWS সার্টিফিকেট নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বড় রায়

Calcutta High Court Justice Amrita Sinha
Calcutta High Court Justice Amrita Sinha

SLST Recruitment EWS: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসির (SSC) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিশেষ করে যারা ইকোনমিক্যালি উইকার সেকশন বা ইডব্লিউএস (EWS) ক্যাটাগরির অধীনে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের জন্য এই খবরটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয়া বিচারপতি অমৃতা সিনহা সেকেন্ড এসএলএসটি (SLST) ২০২৫ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইডব্লিউএস সার্টিফিকেটের বৈধতা বা ভ্যালিডিটি নিয়ে একটি নজিরবিহীন রায় ঘোষণা করেছেন। এই রায়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়সীমার পর ইস্যু হওয়া কোনো সার্টিফিকেট এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গ্রাহ্য হবে না।

সূচিপত্র

মামলার মূল প্রেক্ষাপট

এই মামলাটি মূলত সেকেন্ড এসএলএসটি ২০২৫ (2nd SLST 2025) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছিল। পিটিশনার কমলাকান্ত মাইতি এবং অন্যান্যরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইডব্লিউএস সার্টিফিকেটের সময়সীমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। মামলার মূল বিষয়বস্তু ছিল, অনেক প্রার্থী অনলাইনে আবেদনের শেষ তারিখের আগেই ইডব্লিউএস সার্টিফিকেটের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা বা বিলম্বের কারণে তারা সেই সার্টিফিকেট হাতে পান আবেদনের শেষ তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পর। প্রার্থীদের দাবি ছিল, যেহেতু তারা সময়মতো আবেদন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ‘এডিট উইন্ডো’ চলাকালীন তাদের হাতে বৈধ সার্টিফিকেট ছিল, তাই তাদের এই সংশাপত্রগুলি গ্রহণ করা হোক।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

মামলাটির ক্ষেত্রে তারিখগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিচে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

বিষয়তারিখ
রিক্রুটমেন্ট নোটিফিকেশন৩০শে মে, ২০২৫
আবেদনের শেষ তারিখ (বর্ধিত)২১শে জুলাই, ২০২৫
এডিট/আপডেট উইন্ডো৫ই আগস্ট থেকে ১২ই আগস্ট, ২০২৫

বাদী ও বিবাদী পক্ষের যুক্তি

আদালতে শুনানির সময় উভয় পক্ষই তাদের স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে:

  • পিটিশনারদের যুক্তি: মামলাকারীরা দাবি করেন যে, আবেদনের শেষ তারিখের আগেই তারা সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। সরকারি দপ্তরের দেরি হওয়ার দায় তাদের নয়। তাছাড়া, যখন কমিশন ভুল সংশোধনের জন্য ‘এডিট উইন্ডো’ খুলেছিল, তখন তাদের কাছে বৈধ সার্টিফিকেট ছিল, তাই তাদের ইডব্লিউএস সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
  • কমিশনের (SSC) যুক্তি: স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল যে রিজার্ভেশনের সুবিধা পেতে হলে আবেদনের শেষ তারিখ অর্থাৎ ২১শে জুলাই, ২০২৫-এর মধ্যে বা তার আগে ইস্যু করা বৈধ সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এর পরে ইস্যু করা কোনো নথি গ্রহণ করা নিয়মবহির্ভূত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়

বিচারপতি অমৃতা সিনহা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যতে যেকোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নজির হয়ে থাকবে:

  1. কাট-অফ ডেটের গুরুত্ব: আদালত জানায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তই চূড়ান্ত। আবেদনের শেষ তারিখের মধ্যে প্রার্থীর হাতে অবশ্যই বৈধ ইডব্লিউএস সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এর পরে ইস্যু করা কোনো সার্টিফিকেট এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়।
  2. এডিট উইন্ডোর প্রকৃত উদ্দেশ্য: বিচারপতির মতে, কমিশন যে ‘এডিট’ বা ‘আপডেট’ করার সুযোগ দিয়েছিল, তা কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য যারা ইতিমধ্যেই (শেষ তারিখের আগে) বৈধ সার্টিফিকেটের অধিকারী ছিলেন কিন্তু ফর্মে কোনো ভুল করেছিলেন। নতুন করে যোগ্যতা অর্জন বা নতুন সার্টিফিকেট আপলোড করার জন্য এই সময় দেওয়া হয়নি।
  3. বৈষম্য রোধ: যদি শেষ তারিখের পরে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয়, তবে যারা নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন বা যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের প্রতি বৈষম্য করা হবে। এটি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
  4. আর্থিক বছরের ভিত্তি: ইডব্লিউএস সার্টিফিকেট একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরের আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয় এবং এর মেয়াদ এক বছর থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর বৈধতা থাকা জরুরি।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সকল দিক বিবেচনা করে কলকাতা হাইকোর্ট পিটিশনারদের আবেদন খারিজ (Dismiss) করে দিয়েছে। রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যারা ২১শে জুলাই ২০২৫-এর পর ইডব্লিউএস সার্টিফিকেট হাতে পেয়েছেন, তারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইডব্লিউএস ক্যাটাগরির কোনো সুবিধা পাবেন না। ফলে, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে যারা দেরিতে সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন, তারা সাধারণ বা জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থী হিসেবেই বিবেচিত হতে পারেন, যদি তাদের নম্বর সেই সীমার মধ্যে থাকে। এই রায় চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের জন্য নিশ্চিতভাবেই বড় ধাক্কা।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>