All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
শিক্ষা

SSC Contempt Case: ২৬,০০০ শিক্ষকের চাকরি ও বেতন ফেরত: আজ সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উঠে এল বড় আপডেট

SSC Contempt Case: রাজ্যের শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের চর্চার কেন্দ্রে ২৬,০০০ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর ভবিষ্যৎ। সুপ্রিম কোর্টে এসএসসির এই বিশাল সংখ্যক নিয়োগ বাতিল এবং অযোগ্যদের বেতন ফেরত সংক্রান্ত কনটেম্পট বা আদালত অবমাননার মামলার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্ববর্তী নির্দেশিকা মেনে রাজ্য সরকার বা স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এখনও পর্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়েই আজ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬—আজকের শুনানিতে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং আগামী দিনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে নতুন সময়সীমা।

শুনানির প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ

গত এপ্রিল ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল, যেখানে অযোগ্য বা ‘Tainted’ শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি তাদের প্রাপ্ত বেতন সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এবং এসএসসি কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করেছে। এই নির্দেশ অমান্য করার কারণেই দায়ের হয়েছিল কনটেম্পট পিটিশন। মামলাকারীদের মূল বক্তব্য ছিল, সরকারি কোষাগারের টাকা এইভাবে অপচয় হতে দেওয়া যায় না এবং আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।

আদালতে আজকের সওয়াল-জবাব

আজ সুপ্রিম কোর্টের ১২ নম্বর কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। শুনানির শুরুতেই মামলাকারীদের পক্ষের জুনিয়র আইনজীবী বেঞ্চের কাছে সময় প্রার্থনা করেন।

আদালত সূত্রে খবর, মামলাকারীদের সিনিয়র আইনজীবী গতকালই মামলার সমস্ত এফিডেভিট এবং নথিপত্র হাতে পেয়েছেন। আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিতে তাঁদের পক্ষ থেকে তিন সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। যদিও এসএসসির আইনজীবীরা শুনানির জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তবুও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং নথি আদান-প্রদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে বিচারপতি এই সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন।

এক নজরে মামলার তথ্যাদি:

মামলার বিষয়২৬,০০০ নিয়োগ বাতিল ও বেতন ফেরত (কনটেম্পট)
বিচারপতিগণবিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রন
পিটিশনারলক্ষ্মী টুঙ্গা, সেতাব উদ্দিন, সোমা মন্ডল এবং অলোক কুমার খান
বিপক্ষবিনোদ কুমার (ও অন্যান্য)

রাজ্যের ভূমিকা ও নির্দেশিকা

এই মামলার শুনানির আগে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫-এ রাজ্য শিক্ষা দপ্তর থেকে জেলা শাসকদের উদ্দেশ্যে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেখানে অযোগ্য শিক্ষকদের বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে গত এক মাসে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

আগামী শুনানিতে রাজ্যকে এফিডেভিট জমা দিয়ে স্পষ্ট করতে হবে, কেন আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া থমকে আছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শাতে না পারলে রাজ্য বড়সড় আইনি চাপে পড়তে পারে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

বিচারপতিদের বেঞ্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন ২৫শে মার্চ, ২০২৬। এর মধ্যবর্তী সময়ে উভয় পক্ষকে তাদের যাবতীয় এফিডেভিট এবং কাউন্টার এফিডেভিট আদালতে জমা করতে হবে। ফলে, আগামী মার্চ মাসেই নির্ধারিত হতে পারে এই ২৬,০০০ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর চুড়ান্ত ভাগ্য। ততদিন পর্যন্ত আইনি লড়াই এবং অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button