চাকরি

SSC Panel Expiry: এসএসসি প্যানেল এক্সপায়ারি মামলায় বিরাট মোড়! কবে চূড়ান্ত ফয়সালা? জানুন বিস্তারিত

Calcutta High court
Calcutta High court

SSC Panel Expiry: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক মামলার মধ্যে ‘প্যানেল এক্সপায়ারি’ বা প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও নিয়োগ সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে চলা এই মামলায় উঠে এসেছে একাধিক নতুন আইনি যুক্তি এবং তথ্য, যা হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

সূচিপত্র

মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল বিতর্ক

এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সেই সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা, যারা তৃতীয় কাউন্সিলিং বা তার পরবর্তী ধাপে চাকরি পেয়েছেন। অভিযোগ, প্যানেলের বৈধ মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কমিশন বেআইনিভাবে সুপারিশপত্র দিয়ে এঁদের নিয়োগ করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, নবম-দশম শ্রেণির প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ১২ই মার্চ, ২০১৯ সালে এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ছিল ২৭শে নভেম্বর, ২০১৮। এই নির্দিষ্ট তারিখের পর যাঁদের নিয়োগ হয়েছে, তাঁদের চাকরির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মেয়াদ শেষের পর চাকরি পাওয়া মানেই কি দুর্নীতি? এই প্রশ্নের উত্তরে চাকরিপ্রাপকদের একাংশের যুক্তি, তাঁরা যোগ্য প্রার্থী। কমিশনের দীর্ঘসূত্রিতা এবং সময়মতো কাউন্সিলিং না করানোর ফলেই তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া প্যানেলের মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, কমিশনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় কেন যোগ্য প্রার্থীরা নেবেন, তা নিয়ে জোরালো সওয়াল করা হচ্ছে।

Advertisement

আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

সম্প্রতি এই মামলায় একটি উল্লেখযোগ্য নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। নবাবিদুল ইসলাম এবং বিপ্লব সরকার বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার মামলায় নতুন করে দুটি ‘ক্যান’ (CAN) বা আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের আইনজীবীদের মূল বক্তব্য হলো:

  • সিবিআই তদন্তের ফলাফল: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআই ইতিমধ্যেই তদন্ত করে ওএমআর (OMR) শিট কারচুপি এবং র‍্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি পাওয়া অযোগ্যদের চিহ্নিত করেছে।
  • পৃথকীকরণের দাবি: যাঁরা কেবলমাত্র প্যানেলের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার আইনি জটিলতায় ফেঁসেছেন, কিন্তু কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের যেন ওএমআর কারচুপিতে যুক্তদের সঙ্গে এক পংক্তিতে না বসানো হয়। অর্থাৎ, দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া এবং কমিশনের বিলম্বের কারণে দেরিতে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রেখা টানার আবেদন জানানো হয়েছে।

আদালতের বর্তমান পরিস্থিতি ও সময়সীমা

বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানির সময় এজলাস ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ইতিমধ্যেই প্রচুর সংখ্যক আইনজীবী এবং পক্ষভুক্ত হতে চাওয়া প্রার্থীরা ভিড় জমিয়েছেন। আদালত সূত্রে খবর, মামলায় যুক্ত হওয়ার জন্য ১ থেকে ১৭টি পর্যন্ত ‘ক্যান’ অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে এবং আদালত তা গ্রহণও করেছে।

মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে আদালতের দেওয়া সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • মামলার রেসপন্ডেন্টদের ২৩শে ডিসেম্বর, ২০২৫-এর মধ্যে তাঁদের বক্তব্য বা অপোজিশন ফাইল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
  • এর প্রত্যুত্তরে রিপ্লাই ফাইল করার শেষ দিন ধার্য ছিল ৬ই জানুয়ারি, ২০২৬।

পরবর্তী শুনানি ও সম্ভাব্য প্রভাব

আগামী ১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। এই দিনটি কলকাতা হাইকোর্টে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। একদিকে যেমন প্যানেল বহির্ভূত নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে, অন্যদিকে যোগ্য অথচ দেরিতে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের আর্তজি—সব মিলিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের শিক্ষা মহল।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>