Supreme Court AI: সুপ্রিম কোর্টে এবার এআই-এর যুগ! মামলা বরাদ্দ থেকে তালিকাভুক্তি, সব কাজ করবে প্রযুক্তি
Supreme Court AI: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিচার ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে। শীর্ষ আদালতে মামলা তালিকাভুক্তকরণ এবং বেঞ্চ নির্ধারণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে এবার থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করা হবে। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে এই নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এই পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হল বিচার প্রক্রিয়ায় মানবিক হস্তক্ষেপ কমানো, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং কাজের গতি বাড়ানো। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি ‘মাস্টার অফ দ্য রোস্টার’ হিসেবে এই মামলা বরাদ্দের একক দায়িত্ব পালন করেন। নতুন এআই প্রযুক্তির ফলে এই প্রশাসনিক কাজে দ্রুততা আসবে এবং ব্যক্তিগত ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
কেন এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজন?
আদালতের রেজিস্ট্রির অন্দরে একটি সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পরেই এই বড় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। ওই তদন্তে শীর্ষ আদালতের প্রশাসনিক কাঠামোতে মূলত দুটি বড় সমস্যা উঠে আসে:
- দীর্ঘমেয়াদী পোস্টিং: বেশ কিছু আধিকারিক দীর্ঘদিন ধরে একই পদে বহাল ছিলেন, যা কাজের স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছিল।
- সেকেলে পরিকাঠামো: পুরনো এবং মান্ধাতার আমলের প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে মামলা বরাদ্দের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি চোখে পড়ে।
এই সমস্যাগুলি সমাধানে প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ বদলি করা হয়েছে এবং চলতি মাসের শেষের দিকে আরও কিছু রদবদলের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
যে সাম্প্রতিক ঘটনাটি বদল আনল
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের এই প্রশাসনিক ত্রুটি একেবারে প্রকাশ্যে চলে আসে। উত্তরপ্রদেশ গ্যাংস্টার এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন সংক্রান্ত একটি মামলা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু শুনানির সময় উত্তরপ্রদেশ সরকার আদালতকে জানায় যে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি. ওয়াই. চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ একই ধরনের একটি আবেদন আগেই খারিজ করে দিয়েছিল।
আগে খারিজ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সেই একই মামলা ফের নতুন বেঞ্চের তালিকায় এল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি। আবেদনকারী মামলাটি প্রত্যাহার করতে চাইলেও আদালত তা খারিজ করে বিষয়টি যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরেই প্রধান বিচারপতি এই গাফিলতির বিষয়ে একটি বিশদ প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেন।
বিচার ব্যবস্থায় এআই-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা
সুপ্রিম কোর্ট প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। এর জন্য শীর্ষ আদালতের নিজস্ব একটি বিশেষ ‘এআই কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এআই-এর গঠনমূলক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষকে দ্রুত এবং সুলভ বিচার প্রদান করা সম্ভব হবে।
কেরালা হাইকোর্টের থেকে অনুপ্রেরণা
শীর্ষ আদালত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেরালা হাইকোর্টের তৈরি অ্যাডভান্সড কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS)-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছে। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই সিস্টেমটি কেরালা হাইকোর্টকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং পেপারলেস করে তুলেছে।
এই আধুনিক ব্যবস্থায় অটোমেটেড ওয়ার্কফ্লো, সার্বক্ষণিক ই-ফাইলিং, এবং স্মার্ট কোর্টরুমের সুবিধা রয়েছে। এজলাসে ‘অল-ইন-ওয়ান’ টাচ স্ক্রিনের মাধ্যমে বিচারপতি ও আইনজীবীরা সহজেই মামলার নথি দেখতে পান। এছাড়াও, সাক্ষীদের বয়ান প্রতিলিপি করা এবং আদালতের নির্দেশ অনুবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, কেরালা হাইকোর্টের এই মডেল দেশের অন্যান্য আদালতের আধুনিকীকরণে একটি আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।