Supreme Court DA Case: সুপ্রিম কোর্টের অলিন্দে আবারও উঠল পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ প্রসঙ্গ। আজ শীর্ষ আদালতে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি চলাকালীন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শুনানি শেষে ইউনিটি ফোরামের আইনজীবী প্রবীর চ্যাটার্জী আদালতের অন্দরের পরিস্থিতি এবং রাজ্য সরকারের পেশ করা রিপোর্টের অসংগতি নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
সূচিপত্র
পরবর্তী শুনানি ও রিপোর্ট জট
মামলাটি এখনই মিটছে না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, আগামী ৬ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এখনও স্বচ্ছ তথ্য বা রিপোর্ট পেশ করতে পারেনি। মূলত, সরকারের জমা দেওয়া স্ট্যাটাস রিপোর্টটি বিস্তারিত খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই আদালত এই নতুন দিন ধার্য করেছে।
কমপ্লায়েন্স রিপোর্টে আপত্তি ও আইনি লড়াই
রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ বা কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাকে বিনা যুদ্ধে ছেড়ে দিতে নারাজ মামলাকারীরা। আইনজীবী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী শুনানির আগেই এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি বা ‘অবজেকশন’ দাখিল করা হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটিও গড়া হয়। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার আজ তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছিল।
৫৪ শতাংশের ফারাক: এআইসিপিআই সূচকের দাবি
মামলাকারীদের আইনি লড়াইয়ের মূল স্তম্ভ হলো অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা এআইসিপিআই (AICPI)। তাদের দাবিগুলি হলো:
- ডিএ নির্ধারণ করতে হবে ১৯৫৬ এবং ১৯৮২ সালের বেস ইয়ার বা ভিত্তি বছর ধরে।
- আদালতে আইনজীবীরা সওয়াল করেন যে, বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য টাকা অত্যন্ত নগণ্য।
- হিসাব বলছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৫৮% হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে বাংলার কর্মচারীরা থমকে আছেন মাত্র ২২%-এ (যদিও ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি)।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবের সংঘাত
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা একটি পর্যবেক্ষণ দিতে গিয়ে বলেন যে, কর্মচারীরা তো বকেয়ার অন্তত কিছু অংশ হাতে পেয়েছেন। তবে এই মন্তব্যের সাথে সাথেই ভিন্ন মত পোষণ করেন আইনজীবী। তিনি আদালতকে জানান, কিছু কর্মী যৎসামান্য টাকা পেলেও বড় একটি অংশ এখনও কানাকড়িও পাননি। এই বণ্টনের বৈষম্য নিয়ে তিনি বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের নীরবতা
আজকের শুনানিতে গ্রান্ট-ইন-এইড বা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ডিএ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য হয়নি।
- আইনজীবী জানান, এই বিষয়টি নিয়ে সওয়াল করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনও ‘ইনস্ট্রাকশন’ তাদের কাছে ছিল না।
- অদ্ভুতভাবে, যাদের এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করার কথা ছিল, তারাও আজ নীরবতা পালন করেছেন।
- সিনিয়র আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ওপর প্রভাব
এই আইনি লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি এখন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর আর্থিক ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। যদি মামলাকারীরা রাজ্য সরকারের কমপ্লায়েন্স রিপোর্টের বিরুদ্ধে সফলভাবে আইনি যুক্তি খাড়া করতে পারেন, তবে সরকার বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধ্য হবে। এছাড়া, ROPA 2009 মেনে যদি এআইসিপিআই-এর ভিত্তিতে ডিএ গণনা শুরু হয়, তবে বেতনের কাঠামোতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কি আগামী ৬ মে আসবে? সেদিকেই এখন তাকিয়ে সবাই।