শিক্ষা

Teacher Transfer: রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক শিক্ষক বদলির নতুন বিজ্ঞপ্তি, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত মেনেই হবে ট্রান্সফার

A Teacher In A Class Room
A Teacher In A Class Room

এক নজরে

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য উদ্বৃত্ত বদলি বা 'সারপ্লাস ট্রান্সফার' কার্যকর করার নির্দেশ দিল শিক্ষা দপ্তর।
  • রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী ৩০:১ ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
  • যেসব স্কুলে ছাত্র সংখ্যা শূন্য (জিরো এনরোলমেন্ট), সেখানকার শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করা হবে।
  • নতুন এই নিয়মের ফলে সাধারণ ও মিউচুয়াল ট্রান্সফারের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে।

Teacher Transfer: দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ১লা জুলাই, ২০২৬ থেকে রাজ্যের উৎসশ্রী (Utsashree) পোর্টাল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনে বদলির এক নতুন আশার আলো জেগেছিল। বহু বছর ধরে বাড়ি থেকে অনেক দূরে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের জেলায় বা বাড়ির কাছাকাছি বদলি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (School Education Department) কমিশনারের তরফ থেকে গত ১০ই জুলাই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত জেলার ডিপিএসসি (DPSC) বা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এই বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বা পিটিআর (PTR) মেনে অবিলম্বে শিক্ষকদের ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ (Surplus Transfer) বা উদ্বৃত্ত বদলি কার্যকর করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। wbpay.in-এর বিশেষ প্রতিবেদনে আজ আমরা এই বিজ্ঞপ্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ দিকগুলি আলোচনা করব।

সূচিপত্র

রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট (RTE) ২০০৯ এবং পিটিআর (PTR) নিয়ম

সবার জন্য শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে রাইট টু এডুকেশন (RTE) অ্যাক্ট ২০০৯ তৈরি হয়েছিল। এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের আদর্শ অনুপাত (Pupil-Teacher Ratio বা PTR) বজায় রাখা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী এই অনুপাত হতে হবে ৩০:১। অর্থাৎ, প্রতি ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী পিছু ন্যূনতম একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়মটিকেই কঠোরভাবে রাজ্যের প্রতিটি প্রাথমিক স্কুলে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সারপ্লাস ট্রান্সফার (Surplus Transfer) প্রক্রিয়াটি ঠিক কী?

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের যে সমস্ত বিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অতিরিক্ত (অর্থাৎ সারপ্লাস বা উদ্বৃত্ত), সেখান থেকে শিক্ষকদের অবিলম্বে বদলি করে সেইসব বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে যেখানে শিক্ষকের চরম ঘাটতি রয়েছে। রাজ্যে এমন অনেক স্কুল রয়েছে যেখানে ছাত্র সংখ্যা অনেক বেশি কিন্তু সেই অনুপাতে শিক্ষক নেই, ফলে পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা দপ্তর চাইছে খুব দ্রুত বা ‘আর্জেন্ট বেসিসে’ উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের ট্রান্সফার করে এই ঘাটতি মেটাতে। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে শিক্ষার সমান মান বজায় রাখা।

‘জিরো এনরোলমেন্ট’ (Zero Enrollment) বিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ

বিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় অংশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের যে সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা একদম শূন্য বা যাদের ‘জিরো এনরোলমেন্ট’ রয়েছে, সেই স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও অবিলম্বে অন্যত্র বদলি করা হবে। যে স্কুলে পড়ুয়াই নেই, সেখানে শিক্ষক রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই, তাই এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি মানবসম্পদের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

উৎসশ্রী পোর্টালে বদলি প্রত্যাশী শিক্ষকদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব

উৎসশ্রী পোর্টাল পুনরায় চালু হওয়ার পর যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা সাধারণ বদলি (General Transfer) বা মিউচুয়াল ট্রান্সফারের (Mutual Transfer) মাধ্যমে নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি আসার স্বপ্ন দেখছিলেন, এই নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে তাঁদের মনে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, সরকার এখন সাধারণ বদলির চেয়ে ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’-এর ওপর সর্বাধিক জোর দিচ্ছে। শিক্ষক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে যদি দ্রুত নতুন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ (Primary Teacher Recruitment) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেত, তবে হয়তো শিক্ষকদের এই ঘাটতি সহজেই মিটে যেত এবং এই উদ্বৃত্ত বদলির বিষয়টি এতটা প্রকট হয়ে উঠত না। ফলস্বরূপ, উপযুক্ত কারণ বা পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষকের সাধারণ বদলির প্রক্রিয়া এই মুহূর্তে থমকে যেতে পারে বা বিলম্বিত হতে পারে।

শিক্ষকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

  • নিয়মিত আপডেট রাখুন: ডিপিএসসি (DPSC) এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত নজরে রাখুন।
  • উৎসশ্রী পোর্টাল চেক করুন: নিজের প্রোফাইলে লগ ইন করে ট্রান্সফারের স্ট্যাটাসে কোনো পরিবর্তন বা নোটিফিকেশন আসছে কি না তা লক্ষ্য করুন।
  • যোগাযোগ বজায় রাখুন: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (SI of Schools) অফিসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখুন, যাতে কোনো নির্দেশিকা এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এক নজরে বিজ্ঞপ্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
বিজ্ঞপ্তির তারিখ১০ই জুলাই, ২০২৬
নির্দেশককমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন, পশ্চিমবঙ্গ
নির্দেশ প্রাপকসমস্ত জেলার ডিপিএসসি (DPSC) চেয়ারম্যান
মূল ভিত্তিরাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট (RTE) ২০০৯
পিটিআর (PTR) অনুপাত৩০:১ (৩০ জন ছাত্র পিছু ১ জন শিক্ষক)
মূল নির্দেশউদ্বৃত্ত স্কুল থেকে ঘাটতি থাকা স্কুলে আর্জেন্ট বেসিসে বদলি
জিরো এনরোলমেন্টছাত্রবিহীন স্কুল থেকে শিক্ষকদের অবিলম্বে সরানো হবে

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>