শিক্ষা

TET Mandatory: শিক্ষকদের তথ্য তলব করল কেন্দ্র, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পদক্ষেপ

TET Mandatory
Tet Mandatory

TET Mandatory: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়, বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ ও যোগ্যতার মানদণ্ডে বড়সড় তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ দেশের শীর্ষ আদালত টেট (TET) বা টিচার এলিজিবিলিটি টেস্টকে শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক বলে রায় দিয়েছে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা, যেখানে কর্মরত শিক্ষকদের খুঁটিনাটি তথ্য তলব করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি ডি.ও (D.O) লেটার জারি করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের বর্তমান স্থিতি যাচাই করা। বিশেষ করে যারা টেট পাস করেছেন এবং যারা করেননি, তাদের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সূচিপত্র

কী কী তথ্য চেয়েছে কেন্দ্র?

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য শিক্ষা দপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে তিনটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে তথ্য প্রদান করতে হবে। এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত—প্রশাসনিক তথ্য এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান।

Advertisement

সাধারণ ও প্রশাসনিক তথ্য

প্রথম ধাপে রাজ্যগুলিকে তাদের শিক্ষক নিয়োগকারী সংস্থা এবং নিয়োগ বিধি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • নিয়োগকারী সংস্থা: প্রাথমিকে (যেমন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ) এবং উচ্চ প্রাথমিকে (যেমন স্কুল সার্ভিস কমিশন) শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্বে থাকা দপ্তরের নাম, ঠিকানা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের যোগাযোগের বিস্তারিত।
  • যোগ্যতার মাপকাঠি: প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য রাজ্যে ন্যূনতম কী শিক্ষাগত যোগ্যতা (Basic Eligibility) ধার্য রয়েছে।
  • পদোন্নতির নিয়ম: শিক্ষকদের প্রমোশন বা ক্যারিয়ার এডভান্সমেন্ট স্কিম (যেমন ১০, ১৮ বা ২০ বছরের বেনিফিট) পাওয়ার শর্তাবলী কী কী, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

শিক্ষকদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও টেট স্ট্যাটাস

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান। এখানে প্রাথমিক (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) এবং উচ্চ প্রাথমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) স্তরের শিক্ষকদের তথ্য আলাদাভাবে দিতে বলা হয়েছে। এই তথ্যের মূল ফোকাস হলো টেট পাস ও চাকরির যোগদানের সময়কাল।

বয়সসীমা অনুযায়ী (২১ থেকে ৬০+ বছর পর্যন্ত) শিক্ষকদের ভাগ করে নিচের তথ্যগুলো পূরণ করতে হবে:

  • যোগদানের সময়কাল: ২০১১ সালের ১লা জানুয়ারির আগে (এনসিটিই-র বিজ্ঞপ্তির পূর্বে) কতজন শিক্ষক চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং ২০১১ সালের পরে কতজন যোগ দিয়েছেন, তার পৃথক হিসাব।
  • টেট পাসের তথ্য: ২০১০ সালের আগে যোগদানকারী কতজন শিক্ষক টেট পাস করেছেন এবং ২০১১-র পরে যোগদানকারীদের মধ্যে কতজন টেট উত্তীর্ণ, তার সংখ্যা।
  • অব্যাহতি বা এক্সেম্পটেড: এমন কোনো শিক্ষক আছেন কি না, যাদের বিশেষ কারণে টেট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যদি থাকে, তবে তার সংখ্যা এবং যৌক্তিক কারণ দর্শাতে হবে।

কেন এই তথ্য সংগ্রহ?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এটি স্পষ্ট যে, আগামী দিনে শিক্ষকতার চাকরিতে টেট পাস থাকাটা আবশ্যিক শর্ত হিসেবেই গণ্য হবে। এতদিন ধরে যারা টেট পাস না করেই চাকরি করছিলেন বা যাদের নিয়োগ এনসিটিই-র গাইডলাইন আসার আগে হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকার এই ডেটাবেস তৈরি করে নিশ্চিত করতে চাইছে যে, দেশের সমস্ত স্কুলে নিযুক্ত শিক্ষকরা নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করছেন কি না। রাজ্য সরকারকে দ্রুত এই তথ্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>