শিক্ষা

TET Review Petition: সুপ্রিম কোর্টে টেট মামলার শুনানি কেন আটকে? জানুন ডিফেক্ট লিস্ট ও বর্তমান স্ট্যাটাস

TET Review Petition
Tet Review Petition

TET Review Petition: ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর বেঞ্চ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য টেট (Teacher Eligibility Test) বা টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে একটি ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছিল। এই রায়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হওয়ায়, এর পুনর্বিবেচনা চেয়ে একাধিক পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তবে মামলা দাখিল হওয়ার পরেও শুনানির দিনক্ষণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। শিক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন এখনও এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির শুনানি শুরু হচ্ছে না?

এই প্রতিবেদনে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা রিভিউ পিটিশনগুলির বর্তমান পরিস্থিতি, শুনানিতে বিলম্বের আইনি কারণ এবং ডিফেক্ট লিস্ট বা ত্রুটি তালিকা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করা হলো।

সূচিপত্র

সুপ্রিম কোর্টে বর্তমান পিটিশনের পরিসংখ্যান

১লা সেপ্টেম্বরের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে এখনও পর্যন্ত মোট ৩০টি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন, রাজ্য সরকার এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী পিটিশনগুলির বিভাজন নিম্নরূপ:

  • রিভিউ পিটিশন (Review Petitions): ২৮টি
  • মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন (Modification Application): ১টি
  • রিট পিটিশন (Writ Petition): ১টি
Advertisement

শুনানিতে কেন বিলম্ব হচ্ছে? ‘ডিফেক্ট লিস্ট’-এর ভূমিকা

মামলা দাখিল হলেও শুনানির তারিখ ঘোষণা না হওয়ার প্রধান কারণ হলো পিটিশনগুলিতে থাকা কিছু আইনি ত্রুটি বা ‘ডিফেক্ট’ (Defect)। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পিটিশন দাখিল করার পর রেজিস্ট্রি বিভাগ সেটি যাচাই করে। যদি ফাইলে কোনো গঠনগত বা তথ্যগত ত্রুটি থাকে, তবে সেটিকে ‘ডিফেক্ট লিস্ট’-এ পাঠানো হয়।

আইনত, আবেদনকারীদের এই ত্রুটি সংশোধন বা ‘ক্লিয়ার’ করার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। যতক্ষণ না এই ত্রুটিগুলি সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ মামলাটি বিচার্য বিষয় হিসেবে গণ্য হয় না এবং শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত (Listed) করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মামলাই এই ত্রুটির কারণে আটকে রয়েছে।

ডিফেক্ট লিস্টে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাসমূহ

রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন—অনেকের দাখিল করা পিটিশনই বর্তমানে ডিফেক্ট লিস্টে রয়েছে। নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ মামলাগুলির বর্তমান স্থিতি তুলে ধরা হলো:

পিটিশনকারী / মামলার নামদাখিলের তারিখ (২০২৫)বর্তমান স্ট্যাটাস
বিধান কুমার মন্ডল (বিজিটিএ পক্ষ)১১ই নভেম্বরডিফেক্ট লিস্ট
বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (সেক্রেটারি)১২ই নভেম্বরডিফেক্ট লিস্ট
ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারি এডুকেশন১২ই নভেম্বরডিফেক্ট লিস্ট
চিন্ময় ঘোষ (BGTA)১৭ই নভেম্বরডিফেক্ট লিস্ট
ওমেন টিচারস অ্যাসোসিয়েশন১৭ই নভেম্বরডিফেক্ট লিস্ট
নূরনেশা খাতুন২২শে নভেম্বরডিফেক্ট লিস্ট
পশ্চিমবঙ্গ সরকার (স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল)২৮শে নভেম্বরডিফেক্ট লিস্ট

উল্লেখিত মামলাগুলির ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আদালত শুনানির তারিখ ঘোষণা করবে না।

নতুন দাখিলকৃত মামলা ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া

সাম্প্রতিককালে আরও কিছু নতুন মামলা দাখিল করা হয়েছে, যেগুলি এখনও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগের যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন স্তরে রয়েছে। যেহেতু এগুলির যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, তাই এগুলিতে এখনও কোনো ডিফেক্ট ধরা পড়েনি।

  • তামিলনাড়ু গ্রাজুয়েট টিচারস ফেডারেশন: ২রা ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিল করা হয়েছে।
  • রমেশ তুকারাম বাংকার: ৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিল করা হয়েছে।

যাচাইকরণ শেষ হলে জানা যাবে এগুলিতে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন আছে কিনা।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও শুনানির সম্ভাবনা

শিক্ষক মহলের মূল প্রশ্ন হলো, শুনানি কবে হবে? আইনি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সমস্ত রিভিউ পিটিশন এবং অ্যাপ্লিকেশনের ‘ডিফেক্ট’ সংশোধন (Cure) হওয়ার পরেই মামলাগুলি শুনানির জন্য প্রস্তুত হবে। ভবিষ্যতে আরও নতুন পিটিশন জমা পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সমস্ত আইনি জটিলতা কাটার পর সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে শুনানি কোন পদ্ধতিতে হবে—তা কি ‘ক্লোজ চেম্বারে’ (বিচারপতিদের ব্যক্তিগত কক্ষে) হবে, নাকি ‘ওপেন হেয়ারিং’ (প্রকাশ্য আদালতে) হবে। আপাতত, ত্রুটিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>