শিক্ষা

WBBSE Ad hoc Committee: পর্ষদের অ্যাড-হক কমিটি ভেঙে নির্বাচনের দাবি শিক্ষক সংগঠনের

WBBSE Notice for SAS
WBBSE Notice for SAS

এক নজরে

  • মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ১১ সদস্যের বর্তমান অ্যাড-হক কমিটি ভেঙে ফেলার জন্য অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বিনোদ কুমারকে ডেপুটেশন দিল এপিজিটিডব্লিউএ।
  • শিক্ষাদপ্তরের মেমো নম্বর ১৩০৬-এসইডি অনুযায়ী এই কমিটির মেয়াদ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রয়েছে।
  • ১৪ বছর ধরে বোর্ডে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকেরা।
  • সম্প্রতি রাজ্যের সব স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাই বোর্ডের মতো উচ্চতর সংস্থাতেও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে।
  • স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বার্থে শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দীর্ঘদিনের অ্যাড-হক কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে রাজ্যের শিক্ষক সংগঠন ‘অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (APGTWA)। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়ে সোমবার বিকাশ ভবনে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বিনোদ কুমারের হাতে একটি আবেদনপত্র তুলে দিয়েছেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংগঠনের স্পষ্ট অভিযোগ, ২০১৬ সালের সংশোধনী আইনের ৪এ ধারার ১ উপধারা এবং ১৯৬৩ সালের ৫ নম্বর আইনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অগণতান্ত্রিক উপায়ে এই পর্ষদ চালানো হচ্ছে। শিক্ষকদের কথায়, গত ১৪ বছর ধরে কোনো নির্বাচন না হওয়ায় রাজ্য সরকার নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে এই কমিটি সাজিয়ে রেখেছে।

সূচিপত্র

কেন উঠল অ্যাড-হক কমিটি বাতিলের দাবি?

বিকাশ ভবনে জমা দেওয়া ডেপুটেশনে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, গত ১৪ বছর ধরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদে নির্বাচনের কোনো বালাই নেই। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমিক শাখার সর্বশেষ নোটিফিকেশন (1306-SED-11099/12/2022, তারিখ: 18.09.2025) অনুযায়ী, ১১ জনের এই অ্যাড-হক কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ১৯.০৯.২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে।

এদিকে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্পনসর্ড স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দিয়ে সেখানে ডিডিও (DDO) বা প্রশাসক বসানোর নির্দেশ দিয়েছে বিকাশ ভবন। শিক্ষকদের যুক্তি, যদি স্কুল পর্যায়ে এমন কড়াকড়ি চলে, তবে শিক্ষা দপ্তরের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সংস্থা হিসেবে পর্ষদে এমন নির্বাচনহীন কমিটি টিকিয়ে রাখার কোনো নৈতিক বা যৌক্তিক ভিত্তি থাকতে পারে না।

Advertisement

শিক্ষাক্ষেত্রে ও শিক্ষক মহলে এর প্রভাব

পর্ষদের এই দীর্ঘকালীন প্রশাসনিক অচলাবস্থা রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের দৈনন্দিন কর্মজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

  • স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগ: দীর্ঘ ১৪ বছর নির্বাচন না হওয়ায় বোর্ড সভাপতি হিসেবে নিজেদের অনুগতদের বসিয়ে বেনজির দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় এবং চৈতালি দত্তের পর বর্তমানে রামানুজ গাঙ্গুলি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষক প্রতিনিধিদের অভাব: নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় পর্ষদের অ্যাকাডেমিক বা নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে সাধারণ শিক্ষকদের কণ্ঠস্বর পৌঁছাচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষকদের বদলি, পদোন্নতি ও সার্ভিস রুলসের মতো বিষয়গুলো একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
  • স্কুল স্তরের প্রশাসনিক শূন্যতা: স্কুলগুলোতে যেখানে ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেখানে বোর্ডে একনায়কতন্ত্র চললে সাধারণ শিক্ষক-কর্মীরা নিজেদের ন্যায্য দাবি জানানোর জায়গা পাচ্ছেন না।

এক নজরে পর্ষদের বিতর্কিত কমিটির ইতিহাস

শিক্ষক প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান পর্ষদের রূপরেখাটি নিচে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
বর্তমান কমিটির মেয়াদ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর
সদস্য সংখ্যা১১ জন
বর্তমান সভাপতিরামানুজ গাঙ্গুলি
বিগত দুই সভাপতিকল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও চৈতালি দত্ত
নির্বাচনহীন সময়কালদীর্ঘ ১৪ বছর
প্রাসঙ্গিক ধারা১৯৬৩ সালের অ্যাক্ট ৫ এবং ২০১৬ সংশোধনী আইনের ৪এ(১) ধারা

অবশেষে, এই অ্যাড-হক কমিটি বাতিল করে শিক্ষাবিদ ও নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বচ্ছ একটি কমিটি গঠন করার জন্য নতুন রাজ্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>