রাজ্যের ২৫টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মী এবং তিনটি প্রধান শিক্ষা পর্ষদের নিয়মিত কর্মচারীদের বেতন কাঠামো এবার সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় আনা হলো। অর্থ দপ্তর ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা ৪০৭৮-এফ(পি ১) নম্বর রেজোলিউশনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।
গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ২৬৫৭-এফ(পি ১) নম্বর নির্দেশের মাধ্যমে রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ২৭৬০-এফ(পি ১) নম্বর রেজোলিউশনে তার আংশিক রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি উল্লিখিত স্বশাসিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের বর্তমান বেতন কাঠামো এবং চাকরির শর্তাবলি খতিয়ে দেখে দ্রুত সুপারিশ জমা দেবে এই কমিশন।
সূচিপত্র
কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশের আওতায় এল
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট তিনটি শিক্ষা পর্ষদ এবং রাজ্যের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কর্মীরা এই পর্যালোচনার আওতায় আসছেন:
- পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)
- পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)
- পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ (WBBME)
- রাজ্যের ২৫টি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাকাউট (MAKAUT), প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি, সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অশিক্ষক নিয়মিত কর্মচারীরাই (Non-teaching employees) এই কমিশনের আওতায় এসেছেন। শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সাধারণত ইউজিসির নির্দেশিকা মেনে পৃথকভাবে নির্ধারিত হয়।
কর্মীদের বেতন ও পদমর্যাদায় সম্ভাব্য প্রভাব
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীরা রোপা ২০১৯ (ROPA 2019) কাঠামো অনুযায়ী সংশোধিত বেতন পাচ্ছেন। সপ্তম পে কমিশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মতো এদেরও পে ম্যাট্রিক্সের লেভেল বা মূল বেতন একযোগে সংশোধনের পথ তৈরি হলো।
রোপা ২০১৯ পে ম্যাট্রিক্সের সাপেক্ষে সম্ভাব্য বেতন কাঠামোর একটি তুলনামূলক রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
| পদের ধরন | বর্তমান পে লেভেল (ROPA 2019) | বর্তমান ন্যূনতম বেসিক (টাকা) | সম্ভাব্য রিভিশন ধারণা (১.৯২ গুণ) |
|---|---|---|---|
| গ্রুপ-ডি পদমর্যাদা | লেভেল ১ | ১৭,০০০ | ৩২,৬৪০ |
| জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট / এলডিসি | লেভেল ৬ | ২২,৭০০ | ৪৩,৫৮৪ |
| সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট / ইউডিসি | লেভেল ৯ | ২৮,৯০০ | ৫৫,৪৮৮ |
| সেকশন অফিসার / হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট | লেভেল ১৪ | ৩৯,৯০০ | ৭৬,৬০৮ |
মন্তব্য: পে কমিশনের সুপারিশ ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং সংশোধিত বেসিক নির্ধারিত হবে। উপরের হিসাবটি কেবল ধারণাগত উদাহরণের জন্য প্রদর্শিত।
কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী
আপনি যদি এই ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মী কিংবা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চ মাধ্যমিক সংসদ বা মাদ্রাসা পর্ষদের স্থায়ী কর্মী হন, তবে নিচের বিষয়গুলি আপনার জানা জরুরি:
- কারা সুবিধা পাবেন: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়মিত ও অনুমোদিত পদের কর্মচারীরা এই বেতন পর্যালোচনার সরাসরি সুফল পাবেন। চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সুপারিশ প্রযোজ্য হবে কি না, তা সরকার পরবর্তী নীতিমালায় নির্ধারণ করবে।
- কখন থেকে কার্যকর হবে: কমিশন তার সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করার পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ ও রোপা নির্দেশিকা জারি করা হবে।
- আপনার তাৎক্ষণিক করণীয়: কর্মীদের এখনই আলাদা করে কোনো আবেদন বা ফর্ম পূরণ করতে হবে না। তবে নিজের বর্তমান সার্ভিস বুক, এইচআরএমএস বা পে স্লিপে নথিভুক্ত বর্তমান বেসিক পে এবং পে লেভেল সঠিক রয়েছে কি না, তা একবার মিলিয়ে রাখা ভালো।
সূত্র: Finance Order (Memo No. 4078-F(P 1) dated 05.11.2026)
Department: Finance
Source: https://finance.wb.gov.in/writereaddata/4078-F(P1).pdf
Download the order (PDF)










