Download WB Holiday Calendar App 2026

Download Now!
সরকারি কর্মচারী

WB 7th Pay Commission: ২০২৬-এই কি মিলবে সপ্তম বেতন কমিশন? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর

WB 7th Pay Commission: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান কি শীঘ্রই ঘটতে চলেছে? বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে এবং কর্মী সংগঠনগুলোর মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন (WB 7th Pay Commission) নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনো ঘোষণা করা হয়নি, তবুও কর্মী সংগঠনগুলোর ধারণা, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্য সরকার বড় কোনো ঘোষণা করতে পারে।

বিধানসভা নির্বাচন ও কর্মীদের প্রত্যাশা

২০২৬ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কর্মী সংগঠনগুলোর মতে, ভোটের আগে সরকারি কর্মীদের মন জয় করতে রাজ্য সরকার বড় পদক্ষেপ নিতে পারে। ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের মতে, সরকার ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট বাজেটে মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করতে পারে।

তাঁদের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার ঘোষণা করতে পারেন। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে বাজেটে কর্মীদের জন্য কিছু না কিছু সুখবর থাকে। যেমন ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল, যা এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হয়।

কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতনের ফারাক

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন এবং তাঁরা অষ্টম বেতন কমিশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে মাত্র ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। এই বিশাল ফারাক কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কর্মীদের আশা, আসন্ন নির্বাচনের আগেই এই বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে।

রাজ্যপালকে চিঠি ও পাঁচ দফা দাবি

কর্মীদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ সম্প্রতি রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে একটি চিঠি দিয়েছে। এই চিঠিতে মূলত পাঁচটি প্রধান দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

  • অবিলম্বে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা: কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো সংশোধনের দাবি।
  • বকেয়া ডিএ মেটানো: সর্বভারতীয় মূল্যসূচক (AICPI) মেনে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দ্রুত প্রদান।
  • শূন্যপদে নিয়োগ: প্রায় ছয় লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা।
  • চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণ: দীর্ঘসময় ধরে কর্মরত অস্থায়ী ও পার্ট-টাইম কর্মীদের নিয়মিতকরণ।
  • বকেয়া মেটানো: সমস্ত বকেয়া পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

শুধুমাত্র চিঠি দেওয়াই নয়, দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের একাংশের বিশ্বাস, রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনের চাপ—এই দুইয়ের প্রভাবে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটতে পারে এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার কর্মীদের এই দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নেয় কি না।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button