WB DA Arrears: সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনারদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) প্রদানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত কমপ্লায়েন্স অ্যাফিডেভিট বা হলফনামা দাখিল করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে রাজ্য সরকারের বকেয়া মেটানোর পথে থাকা বিভিন্ন জটিলতা, গৃহীত পদক্ষেপ এবং আগামী দিনের আর্থিক পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
সূচিপত্র
বকেয়া মহার্ঘ ভাতার সময়কাল ও বর্তমান পরিস্থিতি
রাজ্য সরকারকে মূলত ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ১৪১ মাসের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং ডিয়ারনেস রিলিফের হিসাব সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিং কমিটিকে জমা দিতে হচ্ছে। কাজের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ সময়কালটিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করে বকেয়া মেটানোর কাজ চলছে।
১. ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া প্রদান
এই পর্বের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩৬৮ জন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মচারীকে ইতিমধ্যে ৫,০২৭.২৮ কোটি টাকার ডিএ প্রদান করা হয়েছে।
- গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মচারী: বকেয়া টাকা সরাসরি জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। মনে রাখবেন, এর ওপর ২৪ মাসের লক-ইন পিরিয়ড প্রযোজ্য থাকবে (অর্থাৎ ২ বছর এই টাকা তোলা যাবে না)।
- গ্রুপ ডি কর্মচারী: বকেয়া সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে।
- পেনশনার: প্রায় ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫৬৪ জন পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারকে ১,৮৮৯.৭৬ কোটি টাকার ডিআর সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে।
২. ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া: জটিলতা এবং সমাধানের রোডম্যাপ
২০০৮-২০১৫ সালের পুরোনো ম্যানুয়াল সার্ভিস বুকের ডেটা অনলাইন পোর্টালে (HRMS) না থাকায় কাজটিতে সময় লাগছে। তবে, ট্রেজারি থেকে সরাসরি পেনশন প্রাপক ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৯২ জন পেনশনারকে ইতিমধ্যে ৮৫৪.১৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল সার্ভিস বুক ডিজিটাইজ করার জন্য বিশেষ অনলাইন পোর্টাল চালু হয়েছে।
এই সময়কালের বকেয়া মেটানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি জমা দিয়েছে রাজ্য সরকার। চারটি কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হবে:
- ১ লা জুলাই, ২০২৬
- ১ লা জানুয়ারি, ২০২৭
- ১ লা জুলাই, ২০২৭
- ১ লা জানুয়ারি, ২০২৮
রাজ্য সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং নতুন প্রস্তাব
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ১০০ শতাংশ অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) নিয়ম মেনে বকেয়া মেটাতে হলে রাজ্য কোষাগারের ওপর ১১,৯৮৩ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক দায়ভার পড়বে। এফআরবিএম (FRBM) আইনের অধীনে ঋণ গ্রহণের সীমাবদ্ধতা, পুরোনো পেনশন স্কিম (OPS) চালু রাখা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কারণে রাজ্যের ওপর প্রবল আর্থিক চাপ রয়েছে। তাছাড়া, পশ্চিমবঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির হার সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় কম ছিল।
এই কারণে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি বিকল্প প্রস্তাব রেখেছে— ১০০% এর বদলে ৮৫% এআইসিপিআই হারে বকেয়া প্রদান করা হোক।
কর্মচারী ও পেনশনারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
রাজ্য সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, এই প্রস্তাবের কারণে আপাতত দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
- বর্তমান পেমেন্ট ১০০% হারেই: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বর্তমান ১০০% হারেই হিসাব নিকাশ এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়া চলবে। ভবিষ্যতে আদালত ৮৫% প্রস্তাব মানলে তবেই পরবর্তী কিস্তির সাথে অতিরিক্ত অংশ সমন্বয় (Adjust) করা হবে।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপডেট রাখুন: যেসকল পেনশনার কলকাতার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশন পান, তাঁদের ডেটা যাচাইকরণের কাজ চলছে। সাময়িকভাবে তাঁদের আনুমানিক বকেয়ার ৫০ শতাংশ অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। তাই নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সচল এবং আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া কমপ্লায়েন্স হলফনামায় রাজ্য সরকার বকেয়া মেটানোর সদিচ্ছা স্পষ্ট করেছে। ২০১৬-২০১৯ এর বকেয়া প্রায় মেটানো হলেও, পুরোনো বকেয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। এবার সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিং কমিটির পরবর্তী শুনানির ওপর। পরবর্তী আপডেট পেতে নজর রাখুন আদালতের রায়ের দিকে।









