পেনশনার

Dearness Relief: কলকাতার ব্যাঙ্ক থেকে পেনশন পাওয়া রাজ্য পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিআর-এর ৫০% প্রদানের নির্দেশ

Pension Pensioners
Pension Pensioners

এক নজরে

  • কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকার পেনশনভোগীদের জন্য বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণের ৫০ শতাংশ অবিলম্বে অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • সুপ্রিম কোর্টের ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • ২০০৮ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থাংশের হিসাব করে এই টাকা দেওয়া হচ্ছে।
  • ব্যাঙ্কগুলির পোর্টালে ডেটা যাচাই করে জীবিত থাকার স্থিতি নিশ্চিত করার পর সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে।

Dearness Relief: কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC) এলাকার অন্তর্গত ব্যাঙ্কগুলি থেকে পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশন গ্রহণকারী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি পেনশনভোগীদের জন্য একটি বড় সুখবর নিয়ে এসেছে প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (A&E), পশ্চিমবঙ্গের অফিস। ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি সার্কুলার অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ২০০৮ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ (Dearness Relief বা DR) প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে৷ এই পদক্ষেপটি মূলত সুপ্রিম কোর্টের ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকরা বড়সড় আর্থিক সুরাহা পেতে চলেছেন৷

সূচিপত্র

বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ প্রদানের মূল প্রেক্ষাপট

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তির (যেমন ১৩.০৩.২০২৬ তারিখের ৯৯৭-F (P2), ২৩.০৩.২০২৬ তারিখের ১০৮৬-F(P2) এবং ২৯.০৫.২০২৬ তারিখের ১৯০৯-F(P2)) মাধ্যমে ROPA 2009-এর অধীনে বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ প্রদানের সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করেছিল৷ কিন্তু কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকার অনুমোদিত ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে পেনশনভোগীদের এই বকেয়া অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বড় জটিলতা তৈরি হয়৷ অর্থ দপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাঙ্কগুলির দ্বারা জমা দেওয়া পেনশন বিতরণের ডেটা বা তথ্য সঠিক ফর্ম্যাটে ছিল না অথবা তাতে ভুলভ্রান্তি ছিল৷ রাজ্য সরকারের স্ক্রুটিনিতে এই ত্রুটিগুলি ধরা পড়ে, যার ফলে প্রতিটি পেনশনভোগীর জন্য বকেয়া অর্থের সঠিক হিসাব করা সম্ভব হচ্ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি একটি অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়৷

Advertisement

অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান: ৫০% বকেয়া প্রদান

এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য এবং প্রবীণ পেনশনভোগীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে অর্থ দপ্তর ০৭.০৭.২০২৬ তারিখের ১২৫-F(Pen) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

  • পেনশনভোগীদের অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার ২০০৮ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের আনুমানিক বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণের ৫০% প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷
  • ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে অতীত পেনশন বিতরণের বৈধ এবং সঠিক তথ্য না আসা পর্যন্ত এই ৫০% বকেয়া অর্থ প্রদান করা হবে৷
  • এই অর্থ হিসাব করার জন্য প্রিন্সিপাল এ.জি. অফিসের দেওয়া ইলেকট্রনিক ডেটা ব্যবহার করা হবে, যা ৩১/১২/২০১৯ এর আগে অনুমোদিত বেসিক পেনশন বা সংশোধিত বেসিক পেনশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি৷

ব্যাঙ্কগুলির জন্য নতুন পোর্টাল ও নির্দেশিকা

রাজ্য সরকার WBIFMS-এর অধীনে একটি বিশেষ ‘ব্যাঙ্ক পেনশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল’ তৈরি করেছে, যেখানে প্রিন্সিপাল এ.জি. অফিস প্রয়োজনীয় ডেটা আপলোড করেছে৷ ব্যাঙ্কগুলিকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে:

  • সব ব্যাঙ্ককে পোর্টালে আপলোড করা ডেটা যাচাই করে পেনশনভোগীদের ব্যক্তিগত বিবরণ এবং বেসিক পেনশনের তথ্য নিজেদের সিস্টেমের সাথে মিলিয়ে আপডেট করতে হবে৷
  • ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের সিস্টেমের মধ্যেই প্রতিটি পেনশনভোগীর জীবিত থাকার স্থিতি (survival status) নিশ্চিত করতে হবে৷
  • সিস্টেমের লজিক এবং উপলব্ধ রেকর্ডের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা করা বকেয়া অর্থের পরিমাণটি অবিলম্বে পেনশনভোগী বা ফ্যামিলি পেনশনভোগীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিতরণ করতে হবে৷
  • যদি ইতোমধ্যে কোনো পেনশনভোগী বা ফ্যামিলি পেনশনভোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে ২৩/০৩/২০২৬ তারিখের ৭৫-F(Pen) মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী ব্যাঙ্ক সেই বকেয়া অর্থ নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীকে প্রদান করবে৷

পরবর্তী পদক্ষেপ ও অবশিষ্ট বকেয়া

যদিও অন্তর্বর্তীকালীন ৫০% বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবুও ব্যাঙ্কগুলির দায়িত্ব এখানেই শেষ হচ্ছে না৷ সার্কুলারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবশিষ্ট বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণের হিসাব এবং বিতরণের জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ১.০৪.২০০৮ থেকে ৩১.১২.২০১৯ পর্যন্ত ROPA 2009 সাইকেলের অতীত পেনশন বিতরণের বৈধ তথ্য দ্রুত জমা দিতে হবে৷ এমনকি যে সমস্ত পেনশনভোগীদের ডেটা ব্যাঙ্ক পেনশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালে নেই, তাদের তথ্যও ব্যাঙ্কগুলিকে প্রদান করতে হবে যাতে সকল যোগ্য পেনশনভোগীরা তাদের সম্পূর্ণ প্রাপ্য পেতে পারেন৷ এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ নাগরিকরা একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আর্থিক সুবিধার মুখ দেখতে চলেছেন এবং এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া তাদের জন্য অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে৷

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>