WB DA News: সম্প্রতি রাজ্য সরকারি কর্মচারী, গ্র্যান্ট-ইন-এড (Grant-in-aid) প্রতিষ্ঠান যেমন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। সম্প্রতি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের সাক্ষাৎকার থেকে এই বকেয়া ডিএ রিলিজ এবং হিসাবের অসঙ্গতি মেটানোর বিষয়ে বেশ কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা জানা গেছে। রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরে এই মুহূর্তে কর্মীদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জোরকদমে চলছে।
সূচিপত্র
গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের বকেয়া মেটানোর দাবি
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ এবং আন্ডারটেকিং সংস্থাগুলোর কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রদান নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে:
- চিঠি প্রদান: সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে রাজ্য সরকারকে পুনরায় একটি লিখিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
- সরকারি বিজ্ঞপ্তির দাবি: শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সরকারি নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বকেয়া মেটানোর বিষয়টি আইনিভাবে সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
- অন্যান্য দপ্তরের অন্তর্ভুক্তি: এর সাথে পিডব্লিউডি (PWD), সেট (SET) দপ্তরের ওয়ার্ক চার্জ এমপ্লয়ী এবং এনভিএফ (NVF) কর্মীদের বকেয়া মেটানোর বিষয়টিও আলাদাভাবে উল্লেখ করে সরকারের কাছে পেশ করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সমস্যা ও হেল্পডেস্ক চালু
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ইতিমধ্যেই অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু মূল সমস্যা হলো কোয়ান্টিফিকেশন বা হিসেব নিকেশ নিয়ে।
- হিসেবে অসঙ্গতি: বিগত সময়ের জটিলতার কারণে অনেকেই সঠিক টাকা পাচ্ছেন না। উদাহরণস্বরূপ, একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার বকেয়া হিসেবে মাত্র ৮,০০০ টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ এসেছে, যা তার প্রকৃত পাওনার তুলনায় অনেকটাই কম।
- হেল্পডেস্ক (Helpdesk): এই ধরনের সমস্যার কথা মাথায় রেখে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ আগামী দু-একদিনের মধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ হেল্পডেস্ক চালু করতে চলেছে।
- সরকারের সাথে সেতুবন্ধন: যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা হিসাবের অসঙ্গতির শিকার হচ্ছেন, তারা এই হেল্পডেস্কে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে সমাধানের জন্য।
নবান্নের তৎপরতা ও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
নতুন সরকারের বয়স মাত্র এক মাসের সামান্য বেশি। আগামী ২২ তারিখ রাজ্যের আর্থিক বাজেট পেশ হতে চলেছে, যার কারণে অর্থদপ্তর চূড়ান্ত ব্যস্ত। তবে এর মাঝেই কর্মীদের পাওনা মেটানোর কাজ চলছে। আলোচনা সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী অর্থসচিবকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন যে কর্মীদের বকেয়া টাকার হিসেবে যেন কোনো ভুল না থাকে। প্রয়োজনে আরও ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হলেও কর্মীদের সঠিক পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যেন কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে তাদের বঞ্চিত না করে।









