WB Election Duty: চুক্তিভিত্তিক কর্মীতে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা, স্থায়ী কর্মীর অভাবে রাজ্যজুড়ে ভোটকর্মী নিয়োগে সঙ্কট
WB Election Duty: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্থায়ী কর্মীর ঘাটতির বিষয়টি প্রকট হয়ে উঠেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটকর্মী নিয়োগে চরম সংকটের মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে তৃতীয় পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।
ভোটকর্মী নিয়োগে বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকট
রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বুথে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রয়োজন। প্রতিটি বুথে প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পোলিং অফিসার নিয়োগ করতে হয়।
- নির্বাচন পরিচালনার জন্য শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কর্মীর প্রয়োজন।
- বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব বদলের জন্য ‘রিজার্ভ’ কর্মীদের হিসাব ধরলে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।
- সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে তৃতীয় পোলিং অফিসারের ক্ষেত্রে। সাধারণত গ্রুপ-ডি পদমর্যাদার কর্মীরা এই দায়িত্ব পালন করেন।
- দীর্ঘ দিন সরাসরি সরকারি কর্মচারী হিসেবে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ না হওয়ায় এই পদগুলিতে মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা কাজ করছেন।
- নির্বাচন কমিশনের কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে রাজ্যজুড়ে ভোটকর্মী নিয়োগে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্থবিরতা ও কারণ
প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্তাদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ হলো স্থায়ী নিয়োগের অভাব।
- ২০১৫ সালের শেষে রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গ গ্রুপ-ডি নিয়োগ বোর্ড গঠন করে এবং পরবর্তী ১০ বছরে ৬০ হাজার স্থায়ী কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৫ লক্ষ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরাও ছিলেন।
- ২০১৭ সালের মে মাসে প্রায় ১৮.৭০ লক্ষ পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
- ২০১৮ সালে চূড়ান্ত তালিকার মাধ্যমে মাত্র ৫,৯০০ জনকে নিয়োগ করা হয়।
তৎকালীন বোর্ডের চেয়ারম্যান অতনু রাহা জানান, সেই সময়ে রাজ্য সরকার মাত্র ছয় হাজার কর্মীর চাহিদা জানিয়েছিল, তাই সেই অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে ওই বোর্ড কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং প্রথাগতভাবে স্থায়ী গ্রুপ-ডি পদে আর বড় কোনো নিয়োগ হয়নি।
পরিস্থিতি সামলাতে বিকল্প ব্যবস্থা ও চ্যালেঞ্জ
কমিশনের নিয়ম মেনেই জেলাশাসকদের এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। ঘাটতি মেটানোর জন্য বেশ কিছু বিকল্প ভাবা হচ্ছে:
- যে সকল জেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের অফিস রয়েছে, সেখান থেকে কর্মী সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
- প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের জন্য ফের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
তবে, দ্বিতীয় দফার জন্য এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর যাতায়াত এবং থাকার ব্যবস্থা করা প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’টি দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সর্বশেষ আপডেট
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
- গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভোটকর্মীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং তদন্তের নির্দেশ দেয়।
- রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’টি দফায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
- অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) মাধ্যমে ৫,৪৮৮টি গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের জন্য গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে । তবে পূর্বের বিপুল শূন্যপদের তুলনায় এই নিয়োগ অনেকটাই কম।