পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি বিভাগ ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ধান ঝাড়া মেশিন, ধান কাটা মেশিনের মতো যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে অর্ধেক দামে অর্থাৎ ৫০% ভর্তুকিতে পৌঁছে দিচ্ছে। এই প্রকল্পের নাম ফার্ম মেকানাইজেশন (Farm Mechanization), সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইনে, wbfms.wb.gov.in পোর্টালের মাধ্যমে করতে হবে। আপনার বাড়িতে চাষের জমি থাকলে, বা পরিবারের কেউ কৃষিকাজ করলে, এই প্রকল্পে আবেদন করে যন্ত্রপাতি কেনায় বড়সড় সাশ্রয় হতে পারে। সম্পূর্ণ পদ্ধতিটা ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক।
সূচিপত্র
রেজিস্ট্রেশন কীভাবে করবেন
প্রথমে wbfms.wb.gov.in পোর্টাল ওপেন করেApplicant Sign In অপশনে ক্লিক করে New Registration করতে হয়। এখানে ভোটার কার্ড নম্বর আপনার লগইন আইডি হিসেবে কাজ করবে।
রেজিস্ট্রেশনে যা যা লাগবে:
- মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি
- কৃষকের নাম, আধার নম্বর, বাবা বা স্বামীর নাম
- ক্যাটাগরি (জেনারেল, এসসি, এসটি বা ওবিসি) এবং লিঙ্গ
- জেলা, ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত, মৌজা, পোস্ট অফিস ও পিন কোড সহ ঠিকানা
- বড়, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও স্পেশাল ক্যারেক্টার দিয়ে একটি পাসওয়ার্ড
Sign Up-এর পর Welcome মেসেজ এলে বুঝবেন রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ।
লগইন করে স্কিম বেছে নেওয়া
লগইন করার পর Select Season থেকে আর্থিক বর্ষ (যেমন ২০২৬-২০২৭) বেছে নিতে হয়। এরপর মেনু থেকে Apply Now-তে গিয়ে FSSM বা OTA-র মতো নির্দিষ্ট স্কিম বেছে ফর্ম পূরণ শুরু করতে হবে। যন্ত্রপাতি ছোট, মাঝারি না ভারী, তার ওপর ভিত্তি করে স্কিম আলাদা হয়।
আবেদনে কী কী তথ্য লাগবে
ফর্মে চারটি মূল অংশ থাকে, প্রতিটিতে আলাদা তথ্য ও নথি চাওয়া হয়:
- ব্যক্তিগত বিবরণ: আধার ও ভোটার কার্ডের স্ক্যান কপি (দুই দিকের ছবি, ২০০ KB-র নিচে, JPEG), কৃষকের ধরন (Small, Marginal, Large)
- ব্যাংক বিবরণ: অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC, প্যান কার্ড নম্বর, পাসবইয়ের প্রথম পাতার স্ক্যান
- জমির বিবরণ: ডেসিমেল এককে জমির পরিমাণ, খতিয়ান নম্বর, জে.এল নম্বর, পরচার স্ক্যান (৫০০ KB-র নিচে)
- যন্ত্রপাতির বিবরণ: Category, Machinery Name, কোম্পানি ও মডেলের নাম, জেলার ডিলার নির্বাচন
এই শেষ অংশেই যন্ত্রের Indicative Price এবং Admissible Subsidy স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখায়।
কত ভর্তুকি পাবেন? হিসাব দেখে নিন
সূত্র অনুযায়ী ভর্তুকির হার যন্ত্রপাতির দামের ৫০%। ধরা যাক, একটি পাওয়ার টিলারের Indicative Price ১,২০,০০০ টাকা। তাহলে হিসাবটা দাঁড়ায় এরকম:
| যন্ত্রপাতি | আনুমানিক দাম | ভর্তুকির হার | ফেরত পাওয়া টাকা |
|---|---|---|---|
| পাওয়ার টিলার (ধরা যাক) | ₹১,২০,০০০ | ৫০% | ₹৬০,০০০ |
| ধান কাটা মেশিন (ধরা যাক) | ₹৮০,০০০ | ৫০% | ₹৪০,০০০ |
মনে রাখা দরকার, এই টাকার অঙ্ক উদাহরণ মাত্র। আসল Indicative Price ফর্মে নির্দিষ্ট মডেল বেছে নেওয়ার পরই দেখা যাবে, যা যন্ত্র ও মডেল অনুযায়ী বদলায়।
জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ও নথিপত্র
অনলাইন সাবমিট করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে Annexure-VI ফর্মটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে হয়। এতে পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগিয়ে সই ও বাম হাতের বুড়ো আঙুলের ছাপ দিয়ে, নিচের নথি সহ স্থানীয় ব্লক কৃষি অফিস বা ADA অফিসে জমা দিতে হবে:
- আধার কার্ডের জেরক্স
- ভোটার কার্ডের জেরক্স
- জমির রেকর্ডের জেরক্স
- ব্যাংক পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স
- এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
অফিসের রিসিভিং অফিসার সিল-সই দিয়ে একটি রিসিভড কপি ফেরত দেবেন, সেটি সযত্নে রাখতে হবে।
যন্ত্রপাতি হাতে পাওয়ার পদ্ধতি
আবেদন অনুমোদিত হলে ডিলারকে যন্ত্রের সম্পূর্ণ দাম প্রথমে মিটিয়ে দিতে হয়। ডিলার রিসিভ কপি পোর্টালে আপলোড করার পর নির্দিষ্ট দিনে কৃষি অফিসে যন্ত্র নিয়ে আসবে, সেদিন আবেদনকারীকে উপস্থিত থেকে যন্ত্র বুঝে নিতে হবে। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভর্তুকির টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
উপভোক্তাদের জন্য এর অর্থ কী
যাঁর নিজের বা পরিবারের নামে চাষযোগ্য জমি আছে, তিনিই এই প্রকল্পে আবেদনের যোগ্য। আবেদনের আগে আধার, ভোটার কার্ড, জমির পরচা ও ব্যাংক পাসবই স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন, কারণ পোর্টালে আপলোডের সাইজ-সীমা (২০০ KB বা ৫০০ KB) নির্দিষ্ট। যন্ত্রের মডেল বা ডিলার বেছে নিতে সমস্যা হলে স্থানীয় ডিলারের সঙ্গে কথা বলে নেওয়াই ভালো, কারণ ভুল তথ্যে আবেদন আটকে যেতে পারে। সম্পূর্ণ টাকা আগে ডিলারকে দিতে হয় বলে এই খরচের জোগাড় আগে থেকে রাখা প্রয়োজন, ভর্তুকি ফেরত আসে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে।
সূত্র: Department of Agriculture










