রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোটর সাইকেল, স্কুটার এবং ইলেকট্রিক টু-হুইলার কেনার অগ্রিমের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় অনেকটা বাড়াল অর্থ দপ্তর। ০৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের নতুন অর্থ দপ্তরের মেমো অনুযায়ী, ইলেকট্রিক দ্বিচক্রযানের ক্ষেত্রে কর্মীরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং সাধারণ পেট্রোল চালিত বাইকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ বা অগ্রিম নিতে পারবেন।
আগে কার্যকর থাকা নির্দেশিকাগুলি সংশোধন করে অর্থ দপ্তরের বাজেট শাখা এই নতুন নিয়ম জারি করেছে। রোপা ২০১৯ (ROPA-2019) কাঠামোয় যাদের মূল বেতন (Basic Pay) ন্যূনতম ২৫,৭০০ টাকা বা তার বেশি, তারা প্রত্যেকেই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
সূচিপত্র
অগ্রিমের নতুন হার ও যোগ্যতা
যানবাহনের ধরন এবং অগ্রিমের ধাপ অনুযায়ী ঋণের সর্বোচ্চ অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে:
- পেট্রোল চালিত বাইক বা স্কুটার (প্রথম অগ্রিম): ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, কর্মচারীর ৫ মাসের মূল বেতন, অথবা গাড়ির আনুমানিক দাম, এই তিনটির মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেই অঙ্ক মঞ্জুর হবে।
- পেট্রোল চালিত বাইক বা স্কুটার (দ্বিতীয় অগ্রিম): সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা অথবা গাড়ির দামের মধ্যে যেটি কম।
- ইলেকট্রিক বাইক বা টু-হুইলার (প্রথম অগ্রিম): ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, কর্মচারীর ৬ মাসের মূল বেতন, অথবা গাড়ির দাম, এই তিনটির মধ্যে যেটি কম।
- ইলেকট্রিক বাইক বা টু-হুইলার (দ্বিতীয় অগ্রিম): সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা অথবা গাড়ির দামের মধ্যে যেটি কম।
কীভাবে কাটা হবে টাকা?
ট্রেজারি বা পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে অগ্রিমের টাকা তোলার ঠিক পরের মাসের পে-বিল থেকেই মূল টাকার কিস্তি কাটা শুরু হবে। আসলের টাকা সর্বোচ্চ ৬০টি মাসিক কিস্তিতে বেতন থেকে আদায় করা হবে।
সম্পূর্ণ আসল পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরের মাস থেকে সুদ কাটা শুরু হবে, যার জন্য সর্বোচ্চ ২০টি মাসিক কিস্তি মিলবে। সরকারি নিয়মে নির্দিষ্ট হারে সরল সুদ প্রযোজ্য হবে। তবে কোনো কারণে কিস্তি খেলাপ হলে বার্ষিক ন্যূনতম ৮ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি দণ্ডসূদ (Penal Interest) ধার্য করার নিয়ম রাখা হয়েছে।
| গাড়ির ধরন | প্রথম অগ্রিম (সর্বোচ্চ) | দ্বিতীয় অগ্রিম (সর্বোচ্চ) | আসল পরিশোধের কিস্তি | সুদ পরিশোধের কিস্তি |
|---|---|---|---|---|
| সাধারণ বাইক/স্কুটার | ₹১,২০,০০০ (বা ৫ মাসের মূল বেতন) | ₹৯০,০০০ | সর্বোচ্চ ৬০ মাস | সর্বোচ্চ ২০ মাস |
| ইলেকট্রিক টু-হুইলার | ₹১,৫০,০০০ (বা ৬ মাসের মূল বেতন) | ₹৯০,০০০ | সর্বোচ্চ ৬০ মাস | সর্বোচ্চ ২০ মাস |
কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী
এই সিদ্ধান্তের ফলে নবান্নের অর্থ দপ্তরে ফাইল পাঠিয়ে মাসের পর মাস অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সরকার অগ্রিম মঞ্জুর করার যাবতীয় ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের (Administrative Department) হাতে অর্পণ করেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি অর্থ দপ্তরের গ্রুপ-এন থেকে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে কর্মীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করবে।
ধরা যাক, একজন কর্মীর মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা এবং তিনি ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা দামের একটি ইলেকট্রিক স্কুটার কিনতে চান। ছয় মাসের মূল বেতন হিসেবে তার প্রাপ্য দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, কিন্তু প্রথম অগ্রিমের সর্বোচ্চ সীমা ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। যেহেতু গাড়ির দাম ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা, তাই তিনি নিয়ম অনুযায়ী পুরো ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকাই অগ্রিম হিসেবে পেতে পারেন। ৬০ কিস্তিতে আসল পরিশোধ করলে প্রতি মাসে তার পে-বিল থেকে ২,২৫০ টাকা কাটা যাবে।
তবে মাথায় রাখতে হবে, আগে নেওয়া অগ্রিমের আসল ও সুদ সম্পূর্ণ পরিশোধ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার অগ্রিমের আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি অবসরের আগেই যাতে ঋণের যাবতীয় আসল ও সুদ সম্পূর্ণ মিটে যায়, তা নিশ্চিত করেই দপ্তর এই ঋণ মঞ্জুর করবে।
সূত্র: Finance, Memo No. 1100-F.B. dated 03.11.2026
Department: Finance
Source: https://finance.wb.gov.in/Fin_New/HomePage.aspx
Download the order (PDF)










