নির্দেশিকা

WB Polling Guidelines: ভোটকর্মীদের জন্য নয়া নিয়ম, খাবারের টাকা এবং বুথের পরিকাঠামো নিয়ে নির্দেশিকা

Polling Officer Working With Evm Vvpat Election
Polling Officer Working With Evm Vvpat Election

এক নজরে

  • পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পোলিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
  • বুথে পানীয় জল, শৌচাগার এবং খাবারের সঠিক ব্যবস্থা করার মূল দায়িত্ব সেক্টর অফিসারের।
  • স্থানীয় কোনো ক্লাব বা ব্যক্তির থেকে খাবার গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অন্যথায় কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে।
  • সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, রাজ্যের ভোটকর্মীদের জন্য মাথা পিছু ১৭০ টাকার খাবারের ভাতা বা প্যাকেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ওয়েবকাস্টিং, পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তারিত চেকলিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

WB Polling Guidelines: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে এবার পোলিং এবং সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটের আগের দিন থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত বুথ ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ডিউটিতে গাফিলতি হলে ঠিক কী কী আইনি খাঁড়া নেমে আসতে পারে, তার বিশদ রূপরেখা দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকায়।

সূচিপত্র

সেক্টর অফিসারদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব

বুথের পরিকাঠামো থেকে শুরু করে ভোটকর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার মূল দায়িত্ব থাকছে সেক্টর অফিসারের ওপর। পোলিং স্টেশনে পরিশ্রুত পানীয় জল এবং ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার আছে কিনা, তা নিশ্চিত করা এখন বাধ্যতামূলক। তবে শুধু পরিকাঠামো নয়, ভোটকর্মীদের ব্যক্তিগত আচরণের ওপরেও নজর রাখা হবে।

খাবারের ব্যাপারে কমিশন এবার কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পোলিং অফিসাররা কোনো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ক্লাব বা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের ঠিক করে দেওয়া ভেন্ডররাই খাবার সরবরাহ করবেন। যদি এর অন্যথা হয়, তবে সেক্টর অফিসারকে সরাসরি দায়ী করা হবে।

নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করাও সেক্টর অফিসারের কাজের অংশ। ডিসি (Distribution Center) থেকে বুথে যাওয়া এবং ভোট শেষে ফেরা, সবটাই হবে তাঁর নজরদারিতে। এছাড়া, বুথে কোনো গোলমাল বা সমস্যা হলে খবর পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে সেক্টর অফিসারকে সেখানে সশরীরে পৌঁছাতে হবে।

Advertisement

পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ

বুথের ভেতরে কারিগরি এবং পরিকাঠামোগত খুঁটিনাটি নিয়ে কমিশন বেশ কিছু নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় বুথের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা থাকে না। সেক্ষেত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে সমস্ত পোলিং স্টেশনে সীমানা প্রাচীর নেই, সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী সীমানা তৈরি করতে হবে। আর এই বুথগুলোর নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী।

প্রযুক্তির দিক থেকেও কড়াকড়ি থাকছে। ওয়েবকাস্টিংয়ের জন্য ক্যামেরা ঠিকঠাক বসানো হয়েছে কিনা বা সেটি কাজ করছে কিনা, তা ভোট শুরুর আগেই পরীক্ষা করে নিতে হবে। বুথের ভেতর অন্তত ৬টি থ্রি-পিন প্লাগ পয়েন্ট রাখতে হবে। এর মধ্যে ৩টি থাকবে ওয়েবকাস্টিং যন্ত্রের জন্য এবং বাকি ৩টি ভোটকর্মীদের মোবাইল চার্জ করার জন্য।

খাবারের ভাতা ও সাম্মানিক: এক নজরে

৩ এপ্রিল ২০২৬-এর সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ভোটকর্মীদের খাবারের জন্য মাথাপিছু ১৭০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো কারণে যদি প্যাকেটজাত খাবার দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে সেই টাকা সরাসরি নগদ হিসেবে কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

বেতন বা সাম্মানিকের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো- প্রিজাইডিং অফিসাররা দিনে ৫০০ টাকা এবং ফার্স্ট পোলিং অফিসাররা দিনে ৪০০ টাকা করে সাম্মানিক ভাতা পাবেন। মনে রাখতে হবে, স্থানীয় আতিথেয়তা গ্রহণ করলে সেক্টর অফিসারের বিরুদ্ধে ‘কর্তব্যে গাফিলতি’র দায়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে।

কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি

ভোট প্রক্রিয়ায় সামান্যতম নিষ্ক্রিয়তা বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করবে না কমিশন। যদি কোনো বুথে প্রিজাইডিং অফিসারের গাফিলতির কারণে পুনর্নির্বাচন (Repoll) দিতে হয়, যেমন ওয়েবকাস্টিং বন্ধ হওয়া বা পোলিং এজেন্টকে জোর করে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনায় তিনি চুপ থাকলে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে।

মকপোলের সময় উপস্থিত থাকা কোনো এজেন্ট যদি ভোটের মূল সময়ে দীর্ঘক্ষণ অনুপস্থিত থাকেন, তবে প্রিজাইডিং অফিসারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। এর পেছনে কোনো ভয়ভীতি বা হুমকি কাজ করছে কিনা, তা বুঝে নিয়ে দ্রুত রিটার্নিং অফিসারকে রিপোর্ট করতে হবে।

প্রভাব ও বাস্তবতা

কমিশনের এই কড়াকড়ি সরকারি কর্মচারীদের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি করেছে। একদিকে যেমন বাঁশের বেড়া বা প্লাগ পয়েন্টের মতো সুবিধা তাদের কাজকে কিছুটা সহজ করবে, অন্যদিকে সামান্য ভুলচুকেও কড়া শাস্তির ভয় থাকছে। খাবারের জন্য নির্ধারিত ১৭০ টাকার অঙ্কটি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ রয়েছে, কারণ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ করা ৫০০ টাকার তুলনায় এটি অনেকটাই কম। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন সামলানো ভোটকর্মীদের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>