রাজ্য সরকারি কর্মীদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে সাহায্য করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল West Bengal Salary Advance Scheme। ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অর্থ দফতরের ই-গভর্ন্যান্স গ্রুপ এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা (মেমো নম্বর: 4035-F(eGov)) জারি করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেজারি বা পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস মারফত HRMS/WBIFMS দিয়ে বেতন পাওয়া গ্রুপ এ, বি, সি ও ডি ক্যাটাগরির সমস্ত স্থায়ী কর্মী জরুরি প্রয়োজনে অগ্রিম বেতন নিতে পারবেন।
বাইরের চড়া সুদের অনিয়ন্ত্রিত ঋণ থেকে কর্মীদের বাঁচাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অনুমোদিত শিডিউল্ড কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি-র সঙ্গে যৌথভাবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলছে রাজ্য সরকার। এই স্কিমটি সম্পূর্ণ শূন্য-ব্যয় এবং শূন্য-দায়বদ্ধতা (Zero-Cost and Zero-Liability) ভিত্তিতে চলবে। সরকার এতে কোনও আর্থিক গ্যারান্টি দিচ্ছে না, কেবল পোর্টাল ও বেতন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবাটি সমন্বয় করছে।
সূচিপত্র
স্কিমে কী কী ধরনের অগ্রিম পাওয়া যাবে?
অর্থ দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী কর্মীদের জন্য দুটি আলাদা বিকল্প রাখা হয়েছে:
- শর্ট-টার্ম বা স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম: আকস্মিক প্রয়োজনের জন্য এই অগ্রিম নেওয়া যাবে। অনুমোদনের মাসের নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত টাকা পাওয়া যাবে। পরিশোধের সময়সীমা থাকবে সর্বোচ্চ ৬০ দিন বা পরবর্তী বেতন চক্র। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ হলে কোনও সুদ লাগবে না। বেতন কাটার প্রক্রিয়ায় সরকারি দেরির কারণে কোনও জরিমানা ধার্য করা যাবে না।
- মাল্টি-মান্থ বা দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম: বড় ধরনের পারিবারিক বা চিকিৎসা খরচের জন্য ২ মাস থেকে ৬০ মাস (৫ বছর) মেয়াদে এই অগ্রিম মিলবে। তবে চাকরির মেয়াদ অবসরের আগে পর্যন্তই এই ঋণ সীমাবদ্ধ থাকবে। একজন কর্মী তাঁর মাসিক নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত অগ্রিম পেতে পারেন। এর সুদ ও অন্যান্য চার্জ আরবিআই-এর ডিজিটাল লেন্ডিং গাইডলাইন মেনে কি-ফ্যাক্ট স্টেটমেন্টে (KFS) স্পষ্ট জানানো থাকবে।
অগ্রিমের দুটি বিকল্পের তুলনামূলক তালিকা
| বিষয় | স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম (Short-Term) | দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম (Multi-Month) |
|---|---|---|
| সর্বোচ্চ সীমা | নেট বেতনের ৫০% পর্যন্ত | নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ |
| পরিশোধের মেয়াদ | সর্বোচ্চ ৬০ দিন (১-২ বেতন চক্র) | ২ মাস থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত |
| সুদের হার | শূন্য (নির্দিষ্ট সময়ে শোধ করলে) | আরবিআই নির্দেশিকা মেনে নির্দিষ্ট বার্ষিক হার (APR) |
| ইএমআই ক্যাপ | প্রযোজ্য নয় | নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০% |
| ফোরক্লোজার চার্জ | নেই | মেয়াদ শেষের আগে ঋণ মেটালে কোনও ফি নেই |
কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী
এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ায় কর্মীদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জরুরি টাকার জন্য সহকর্মী বা বাইরের মহাজনের দ্বারস্থ হতে হবে না। আপনার ডিজিটাল সম্মতি ও কেওয়াইসি (KYC) যাচাইয়ের পর ৬০ সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাকা সরাসরি স্যালারি অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।
একজন কর্মীর এক সময়ে কেবল একটি অগ্রিমই চালু থাকতে পারবে। অর্থাৎ শর্ট-টার্ম ও মাল্টি-মান্থ অগ্রিম একসঙ্গে চলবে না। একটি সংস্থার ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ হওয়ার পর অন্য সংস্থায় যেতে চাইলে ৩০ দিনের কুলিং-অফ পিরিয়ড মানতে হবে। বেতন থেকে টাকা কাটার ক্ষেত্রে জিপিএফ, এনপিএস, প্রফেশনাল ট্যাক্স এবং সরকারি পাওনা কাটার পরেই এই কিস্তি কাটা হবে।
বেতনের নিরিখে কিস্তির সহজ হিসাব
ধরা যাক, একজন কর্মীর সমস্ত সরকারি ও বিধিবদ্ধ কর্তনের পর হাতে পাওয়া নেট বেতন ৪০,০০০ টাকা।
- স্বল্পমেয়াদি ক্ষেত্রে: তিনি জরুরি প্রয়োজনে ওই মাসে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা (৫০%) পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারবেন, যা পরবর্তী বেতন থেকে এককালীন কেটে নেওয়া হবে।
- দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে: তিনি সর্বোচ্চ ১২,০০,০০০ টাকা (৪০,০০০ × ৩০) পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে তাঁর মাসিক ইএমআই কোনও অবস্থাতেই ২০,০০০ টাকার (নেট বেতনের ৫০%) বেশি হতে পারবে না।
আগ্রহী কর্মীদের ডব্লিউবিআইএফএমএস পোর্টালে লগ-ইন করে ডিজিটাল সম্মতি দিতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা আগামী ৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।
সূত্র: Finance, Memo No. 4035-F(eGov) dated 03.11.2026
Department: Finance
Source: https://finance.wb.gov.in/Fin_New/HomePage.aspx
Download the order (PDF)










