WB School Holiday: আগামী ৪ঠা মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে চলেছে। এই বিশেষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জোরালো দাবি জানাল শিক্ষক সংগঠন ‘অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ বা APGTWA। সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেই আবেদনের একটি প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও।
সূচিপত্র
কেন এই বিশেষ ছুটির দাবি?
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনটিতে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে একটি সংবেদনশীল, টানটান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সংগঠনের দাবি, এই দিন গণনাকেন্দ্রগুলির আশেপাশে রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকদের বিশাল জমায়েত এবং পরবর্তী সময়ে বিজয় মিছিলের কারণে সাধারণ জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এই ধরণের অস্থির পরিবেশে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছে শিক্ষক মহল।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত প্রধান তিনটি কারণ
- গণপরিবহন ব্যবস্থার বিপর্যয়: গণনাকেন্দ্র ও সংলগ্ন রাস্তায় রাজনৈতিক জমায়েত ও মিছিলের কারণে বাস, অটো বা অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।
- নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন: ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা বা কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে, বিশেষত ছাত্রী এবং মহিলা শিক্ষাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
- দূরবর্তী শিক্ষকদের যাতায়াতের সমস্যা: রাজ্যের বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজেদের বাসস্থানের জেলা পেরিয়ে দূরবর্তী প্রান্তে অবস্থিত বিদ্যালয়ে কর্মরত। যানচলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকলে বা পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে তাঁদের পক্ষে কর্মস্থলে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য
APGTWA-এর পক্ষে রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই এবং যুগ্ম সম্পাদক আশরাফ আলী তাঁদের বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমরা চাই না উৎসবমুখর বা উত্তেজনাকর এই রাজনৈতিক আবহে রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। পরিস্থিতির সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ৪ঠা মে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হলে তা হবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।”
প্রশাসনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ ও আগামী সিদ্ধান্ত
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে, শিক্ষক সংগঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ আবেদনটিকে যথেষ্ট ইতিবাচকভাবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর নবান্ন এবং নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা ও সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এখন সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষক মহলের নজর রয়েছে নবান্নের দিকে— জনস্বার্থ ও ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার এই আবেদনকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকার আগামী ৪ঠা মে ছুটি সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কি না, সেটাই এখন দেখার।
অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের করণীয়
- সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন: ৪ঠা মে স্কুল খোলা থাকবে নাকি ছুটি দেওয়া হবে, তা জানতে শিক্ষা দপ্তরের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করুন এবং স্কুলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।
- বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা: যদি স্কুল খোলা থাকে, তবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হবেন এবং যথাসম্ভব নিরাপদ রুট নির্বাচন করবেন।
- গুজব এড়িয়ে চলুন: ফলাফল সংক্রান্ত বা নিরাপত্তা নিয়ে ছড়ানো ভিত্তিহীন গুজবে কান দেবেন না। কেবলমাত্র যাচাই করা সংবাদমাধ্যম থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করুন।