পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর বকরি ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির তালিকায় বড়সড় বদল এনেছে। ২২ মে, ২০২৬ তারিখে নবান্ন থেকে ১৮১৪-এফ(পি২) নম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই ছুটির দিন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ৪১৮৮-এফ(পি২) নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে ২৬ মে (মঙ্গলবার) এবং ২৭ মে (বুধবার) ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ২৫ নম্বর ধারা মোতাবেক আগামী ২৮ মে, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বকরি ইদ হিসেবে পাবলিক হলিডে ঘোষণা করেছেন। ফলে ২৬ ও ২৭ মে-র পূর্বঘোষিত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ওই দুইদিন রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় স্বাভাবিক কর্মদিবস হিসেবে কাজ চলবে।
সূচিপত্র
নতুন ছুটির তালিকা এক নজরে
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বকরি ইদ উপলক্ষ্যে ছুটির তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
- বাতিল হওয়া ছুটি: ২৬ মে, ২০২৬ (মঙ্গলবার) এবং ২৭ মে, ২০২৬ (বুধবার)
- নতুন সরকারি ছুটি: ২৮ মে, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
- ছুটির ধরন: এনআই অ্যাক্ট (NI Act)-এর অধীনে পাবলিক হলিডে
- আদেশ জারি করা দপ্তর: অর্থ দপ্তর (অডিট ব্রাঞ্চ), পশ্চিমবঙ্গ সরকার
সরকারি কর্মচারীদের জন্য করণীয়
হঠাৎ ছুটির দিন পরিবর্তন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত পরিকল্পনায় কিছুটা প্রভাব পড়বে। যারা মে মাসের শেষে লম্বা ছুটির কথা ভেবেছিলেন, তাদের এখন নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে। ২৬ ও ২৭ মে এখন যেহেতু কাজের দিন, তাই যারা ওই সময়ে ক্যাজুয়াল লিভ বা আর্নড লিভের আবেদন করে রেখেছিলেন, তাদের আইএফএমএস (IFMS) পোর্টালে গিয়ে সেই আবেদন বাতিল বা পরিবর্তন করে নিতে হবে।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ক্লাসের রুটিন বা পরীক্ষার সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, তা নিয়ে দ্রুত স্কুল বা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া ভালো। ২৮ মে সরকারি ছুটি থাকায় ওই দিনের জন্য নতুন করে কোনো ছুটির আবেদনের দরকার নেই।
ট্রেজারি ও বিল প্রসেসিং নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এই পরিবর্তনের ফলে মে মাসের বেতন বিল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। ২৬ ও ২৭ মে অফিস খোলা থাকায় ডিডিও (DDO)-রা বেতন বিল প্রসেস করার জন্য দুটি অতিরিক্ত কর্মদিবস পাচ্ছেন। ট্রেজারি অফিসগুলিও ওই দুইদিন স্বাভাবিক গতিতেই কাজ করবে। তবে ২৮ মে ব্যাংক ছুটি থাকায় বেতন বিল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়িয়ে আগেভাগে বিল পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পি কে মিশ্রের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার প্রতিলিপি ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল, কলকাতার পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস এবং সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও ট্রেজারি অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে।









