শিক্ষা

WB School Merger: পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র হাই স্কুল মিশে যেতে পারে হাই স্কুলের সাথে, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ কী?

Bikash Bhawan School Education Department
Bikash Bhawan School Education Department

এক নজরে

  • রাজ্যের জুনিয়র হাই স্কুলগুলিকে নিকটবর্তী হাই স্কুলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
  • পড়ুয়ার অভাব এবং অবৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোর কারণে এই সংযুক্তিকরণের ভাবনা বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
  • স্কুল মিশে গেলে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
  • শিক্ষকদের বদলি বা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা দেয়নি শিক্ষা দপ্তর।

WB School Merger: রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষার কাঠামো নিয়ে এক নতুন চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এবং শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যের জুনিয়র হাই স্কুলগুলির (যেখানে সাধারণত ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়) অস্তিত্ব হয়তো আর আলাদাভাবে থাকছে না। এই স্কুলগুলিকে এবার নিকটবর্তী হাই স্কুলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে জুড়ে দেওয়ার এক প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, স্কুল শিক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই এই সংযুক্তিকরণের বিষয়ে প্রাথমিক স্তরের পরিকল্পনা এবং রূপরেখা প্রস্তুত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত এবং সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূচিপত্র

শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের ইঙ্গিত ও বর্তমান পরিস্থিতি

সম্প্রতি রবিবার জলপাইগুড়িতে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সৈখিক মহাসংঘের জেলা সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন রাজ্যের বর্তমান স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। সেই সভামঞ্চ থেকেই তিনি রাজ্যের স্কুলগুলির এই বহুচর্চিত সংযুক্তিকরণের বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:

  • অবৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো: রাজ্যের বহু জায়গাতেই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই, সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিকভাবে বড় হাই স্কুলের ঠিক পাশেই ছোট জুনিয়র হাই স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না।
  • পড়ুয়ার চরম অভাব: বর্তমানে এই জুনিয়র হাই স্কুলগুলির অধিকাংশেই ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। পরিকাঠামো থাকলেও পড়ুয়ার অভাবে স্কুল চালানো কার্যত কঠিন হয়ে পড়ছে।
  • সরকারের নতুন ভাবনা: এই সমস্ত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্যই ধুঁকতে থাকা জুনিয়র হাই স্কুলগুলিকে নিকটবর্তী বড় হাই স্কুলের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায় কিনা, সে ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ভাবনাচিন্তা করছে।
Advertisement

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা

যেসব জুনিয়র হাই স্কুলগুলি হাই স্কুলের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীর অভাবে ভুগছে, সেগুলি যদি সত্যিই হাই স্কুলের সাথে মিশে যায়, তবে সেখানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ ঠিক কী হবে, তা নিয়ে এক বিরাট অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

  • বদলি বা ট্রান্সফারের প্রশ্ন: জুনিয়র হাই স্কুলে কর্মরত বহু শিক্ষক, বিশেষ করে যারা অনার্স-পিজি (Honours PG) স্কেলে চাকরি করছেন, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এর আগে বহুবার তারা নিজেদের বদলি বা উচ্চতর বিদ্যালয়ে ট্রান্সফারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার স্কুল মিশে গেলে তাদের বদলির প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
  • কর্মীদের বর্তমান অবস্থান: স্কুলগুলি যদি মিশে যায়, তবে সেই জুনিয়র হাই স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকা বা অশিক্ষক কর্মীদের কি সরাসরি ওই হাই স্কুলের সঙ্গেই যুক্ত করা হবে? নাকি তাদের অন্য কোনো স্কুলে বদলি করা হবে? এই জরুরি প্রশ্নের উত্তরে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের বা শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে স্পষ্ট কোনও বার্তা বা লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি।

চূড়ান্ত নির্দেশিকার অপেক্ষায় শিক্ষামহল

সরকার যদি সত্যিই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে এই সংযুক্তিকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এই সংক্রান্ত সঠিক নিয়ম, বদলি নীতি বা নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এলে তবেই গোটা বিষয়টি সকলের কাছে পরিষ্কার হবে। ওই স্কুলগুলির ছাত্র-ছাত্রীদের পঠনপাঠনের সুবিধা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানার জন্য এখন চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষাতেই রয়েছেন রাজ্যের সমস্ত শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষক সংগঠনগুলি। সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>