[New] 2016 থেকে 2019 পর্যন্ত বকেয়া ডিএ ক্যালকুলেটর

Calculate Now!
advertisement
শিক্ষা

WB Teachers: আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য টেট বাধ্যতামূলক নয়, আসছে শিক্ষার অধিকার সংশোধনী বিল ২০২৬

WB Teachers: ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার পর থেকে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে যে তীব্র উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছিল, তার একটি স্থায়ী সমাধান হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ‘রাইট টু এডুকেশন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০২৬’ (Right to Education Amendment Act 2026) বা শিক্ষা অধিকার সংশোধনী বিল আনার আইনি প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। এই নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পূর্বে নিযুক্ত শিক্ষকদের নিজেদের বর্তমান চাকরি বজায় রাখার জন্য নতুন করে শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক বা টেট (TET) পরীক্ষায় বসার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

advertisement

প্রেক্ষাপট: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট একটি যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছিল যে, কর্মরত সমস্ত প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, যে সমস্ত শিক্ষকের অবসরের সময়সীমা ৫ বছরের বেশি বাকি আছে, তাঁদের আগামী দুই বছরের মধ্যে টেট পাস করতে হবে, অন্যথায় তাঁদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে। অন্যদিকে যাঁদের চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের কম, তাঁদের টেট পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হলেও প্রমোশন বা পদোন্নতির সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করার কথা বলা হয়। এই নির্দেশের ফলে সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কয়েক লক্ষ কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে পড়েন। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতের দ্বারস্থও হয়।

সংশোধনী বিলের মূল বিষয়বস্তু

এই দেশব্যাপী প্রবল উদ্বেগের আবহে এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের অনুরোধ মেনে শিক্ষা অধিকার আইনের সেকশন ২৩-এর বিভিন্ন উপধারায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষা অধিকার সংশোধনী বিল ২০২৬-এ স্পষ্টভাবে আইনি সংস্থান রাখা হয়েছে যে, এই আইন বা সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী কার্যকর হওয়ার আগে যাঁরা বৈধভাবে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য টেট পরীক্ষা আর বাধ্যতামূলক থাকছে না।

কর্মরত শিক্ষকদের ওপর প্রভাব

এই সংশোধনী বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর তার সরাসরি ও সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

advertisement
  • চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা বা বর্তমান অবস্থানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তাঁদের চাকরি ছাঁটাইয়ের কোনো আশঙ্কা থাকছে না।
  • পদোন্নতি ও সিনিয়রিটি বজায় রাখা: শিক্ষকদের পদোন্নতি (Promotion) এবং সিনিয়রিটির (Seniority) ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ না হওয়া কোনো বাধা হিসেবে আর বিবেচিত হবে না।
  • অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা: রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট বা অবসর গ্রহণের পর পেনশন, গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পুরনো নিয়মেই সুরক্ষিত থাকবে।
  • নতুন নিয়োগের জন্য নির্দেশিকা: টেট পরীক্ষা মূলত এই সংশোধনী আইন কার্যকর হওয়ার পর যাঁরা নতুনভাবে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হবেন, তাঁদের জন্যই আবশ্যিক হিসেবে গণ্য হবে।

প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি

টেট পরীক্ষা দিতে না হলেও, রাজ্য সরকার কর্মরত শিক্ষকদের পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অবাধে করতে পারবে। এর আগেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘পিকক মডেল’ এবং ‘সিসিই’ (CCE)-এর মতো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে স্কুলে সেমিস্টার সিস্টেম চালু হওয়ার সময়ও শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনেও এ ধরনের স্কিল আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। তবে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কোনোভাবেই টেট পরীক্ষার সমতুল্য হিসেবে গণ্য হবে না এবং এর সঙ্গে চাকরির মৌলিক শর্ত যুক্ত থাকবে না।

সর্বশেষ আপডেট

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী (সূত্র: সংসদীয় খসড়া বিল, মার্চ ২০২৬), দ্য রাইট অফ চিলড্রেন টু ফ্রি অ্যান্ড কম্পালসারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬-এর খসড়ায় সেকশন ৩৯এ নতুন করে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই খসড়ায় খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টেট সংক্রান্ত যোগ্যতা নির্ণায়ক নিয়ম কেবলমাত্র ভবিষ্যতের নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। উপযুক্ত সরকার শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরি করতে পারলেও, তার সঙ্গে কোনোভাবেই শিক্ষকদের বর্তমান চাকরির নিরাপত্তা বা পদোন্নতির কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকবে না।

পরিশেষে নিঃসন্দেহে বলা যায়, শিক্ষার অধিকার সংশোধনী বিলটি সংসদে পাস হওয়া এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। এই বিল সম্পূর্ণ আইনে পরিণত হলে দেশের বহু কর্মরত শিক্ষকের দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে।

Munmun

মুনমুন WBPAY.in-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। ২০১৮ সাল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের জন্য তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বেতন, মহার্ঘ ভাতা, জিপিএফ, পেনশন, আয়কর, সরকারি প্রকল্প এবং চাকরির নিয়মকানুন বিষয়ক সঠিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য সহজ বাংলায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। WBPAY.in-এর সম্পাদকীয় দলে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের WBIFMS-সহ বিভিন্ন পোর্টালে… More »
Back to top button