চাকরি

Compassionate Appointment: বাবার মৃত্যুর পর বিবাহিত মেয়েরাও পাবেন সরকারি চাকরি, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের

Supreme Court
Supreme Court

এক নজরে

  • সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে বিবাহিত কন্যারাও মানবিক কারণে সরকারি চাকরির অধিকার পেলেন।
  • অবিবাহিত বা বিধবা নন এমন যুক্তিতে বিবাহিত মেয়েদের বঞ্চিত করা অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত।
  • পাটনা হাইকোর্টের রায় খারিজ করে বিচারপতিরা জানান এটি সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার লঙ্ঘন।
  • পুত্র ও কন্যার মধ্যে বৈষম্য দূর করে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতায় জোরালো আঘাত হেনেছে এই রায়।

Compassionate Appointment: সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছে। পরিবারের কোনও সরকারি চাকুরিজীবী সদস্যের অকালমৃত্যুর পর মানবিক কারণে (Compassionate Appointment) চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবাহিত কন্যাদের আর বঞ্চিত করা যাবে না। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র অবিবাহিত, বিবাহবিচ্ছিন্না বা বিধবা কন্যারা এই সুবিধা পাবেন এবং বিবাহিত কন্যারা পাবেন না—এই নীতি পুরোপুরি অসাংবিধানিক। এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এই ঐতিহাসিক রায়ের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করব, যা সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূচিপত্র

মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের রায়

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত বিহারে। সেখানকার এক সরকারি কর্মচারীর অকালমৃত্যুর পর তাঁর বিবাহিত কন্যা মানবিক কারণে বাবার জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালের বিহার সরকারের একটি নীতির ওপর ভিত্তি করে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। পাটনা হাইকোর্টেও ওই নারী প্রথম পর্যায়ে ন্যায়বিচার পাননি। হাইকোর্ট বিহার সরকারের যুক্তি মেনে নিয়েছিল। বিহার সরকারের যুক্তি ছিল যে, বিয়ের পর মেয়েরা সাধারণত শ্বশুরবাড়ি চলে যান এবং বাপের বাড়ির সঙ্গে তাঁদের আর সেইভাবে গভীর সম্পর্ক বা নির্ভরশীলতা থাকে না। তাই বিবাহিত কন্যারা মানবিক কারণে চাকরি পাওয়ার যোগ্য নন।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও কড়া বার্তা

পাটনা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই নারী। বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে বিহার সরকারের সেই নীতিকে সরাসরি খারিজ করে দেয়। শীর্ষ আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে:

  • সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার লঙ্ঘন: সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিবাহিত মেয়েদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় বর্ণিত ‘সমতার অধিকার’-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
  • লিঙ্গ বৈষম্য বেআইনি: চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে পুত্রসন্তান ও কন্যাসন্তানের মধ্যে পার্থক্য করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। ছেলেরা বিবাহিত হলেও তারা এই সুবিধা পায়, অথচ মেয়েরা পায় না—কর্মক্ষেত্রে এই লিঙ্গ বৈষম্য আর বরদাস্ত করা হবে না।
  • সনাতনী ধারণার অবসান: “বিয়ের পর মেয়েরা শুধু শ্বশুরবাড়ির অংশ এবং বাপের বাড়ির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়”—এই ধরনের সেকেলে ও ভিত্তিহীন যুক্তির আইনের চোখে কোনও স্থান নেই বলে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এই রায়ের সামাজিক তাৎপর্য ও প্রভাব

এই রায় শুধুমাত্র একটি আইনি জয় নয়, বরং এটি একটি বড় সামাজিক পরিবর্তন। এতদিন ধরে সরকারি নিয়মকানুনে যে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার ছাপ ছিল, সুপ্রিম কোর্ট তাতে জোরালো আঘাত হেনেছে। এখন থেকে বিবাহিত নারীরাও তাঁদের মৃত বাবা বা মায়ের সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনিভাবে সম্পূর্ণ সমান অধিকার লাভ করবেন। ভারতের মতো দেশে যেখানে নারীদের স্বনির্ভরতা অত্যন্ত জরুরি, সেখানে এই রায় এক নতুন আশার আলো।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>