Biometric Attendance WBBPE: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) অনুমোদিত সমস্ত ডি.এল.এড (D.El.Ed) কলেজগুলির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে পর্ষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষক শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে (TEIs) ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা (Bio-Metric attendance system) অবিলম্বে চালু করতে হবে। কাঠামোগত স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
উপস্থিতির নিয়ম এবং NCTE-এর নির্দেশিকা
ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (NCTE) ২০১৪ সালের রেগুলেশন অনুযায়ী, ২ বছরের ডি.এল.এড কোর্সে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম উপস্থিতির একটি কড়া নিয়ম রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোর্স ওয়ার্ক বা থিওরি ক্লাসের জন্য ন্যূনতম ৮০% এবং স্কুল ইন্টার্নশিপের জন্য ৯০% উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক। এই উপস্থিতি নির্ভুলভাবে পরিমাপ করার জন্যই NCTE ১০ জুলাই ২০১৯ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সমস্ত স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক সিস্টেম বসানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
পর্ষদের পূর্ববর্তী সতর্কতা এবং বর্তমান নির্দেশ
এই নিয়মটিকে মান্যতা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) এর আগে ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নোটিশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত স্বীকৃত ডি.এল.এড প্রোগ্রামে নথিভুক্ত ছাত্র-ছাত্রী এবং নিযুক্ত শিক্ষকদের উপস্থিতি রেকর্ড করার জন্য বায়োমেট্রিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হবে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান সেই নিয়ম সঠিকভাবে পালন না করায় পর্ষদ আবারও এই নতুন বিজ্ঞপ্তিটি জারি করে অবিলম্বে বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালুর কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
নিয়ম অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ
বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানানো হয়েছে যে, বায়োমেট্রিক উপস্থিতি সিস্টেম ইনস্টলেশন সম্পর্কিত নির্দেশিকা অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- এনসিটিই (NCTE) আইন ১৯৯৩ এর ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানগুলি এই নির্দেশ মানবে না তাদের অনুমোদন বা অ্যাফিলিয়েশন প্রত্যাহার করা হতে পারে।
- পর্ষদ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ডি.এল.এড প্রতিষ্ঠানগুলির অনুমোদন পুনর্নবীকরণের (renewal of affiliation) ক্ষেত্রে সফলভাবে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা কার্যকর করা একটি অপরিহার্য বা অবিচ্ছেদ্য শর্ত।
শিক্ষার্থী এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
এই নতুন নিয়মের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে। নিচে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ আলোচনা করা হলো:
- কলেজ কর্তৃপক্ষের করণীয়: অবিলম্বে উন্নত প্রযুক্তির বায়োমেট্রিক ডিভাইস কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপন করুন এবং নিশ্চিত করুন যে সেটি সঠিকভাবে কাজ করছে। অনুমোদন পুনর্নবীকরণের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
- শিক্ষার্থীদের জন্য: উপস্থিতি নিয়ে আর কোনো শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। তাই প্রথম দিন থেকেই ৮০% (থিওরি) এবং ৯০% (ইন্টার্নশিপ) উপস্থিতির নিয়ম মাথায় রেখে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিন।
- শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কলেজে প্রবেশ এবং প্রস্থানের সময় বায়োমেট্রিক মেশিনে উপস্থিতি রেকর্ড করা সুনিশ্চিত করুন।
পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর সেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ভিত্তি হলো এই ডি.এল.এড কোর্স। কোর্স চলাকালীন প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে সম্পূর্ণ সিলেবাস ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে প্রক্সি উপস্থিতি বা অনিয়মিত ক্লাস করার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং শিক্ষার মান বজায় থাকবে।










