পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মামলাটি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, সেই সঙ্গে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারি কর্মী ও পেনশনারদের মধ্যে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে।
আসলে গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিনই এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্বাচনের জেরে তা সম্ভব হয়নি। এখন সুপ্রিম কোর্ট নতুন তারিখ হিসেবে ২৭ মে, ২০২৬ ঠিক করেছে।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও বকেয়া ডিএ-র হিসেব
গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে (মামলা নম্বর: 2026 INSC 123) স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ডিএ কোনো দয়ার দান নয়, এটি কর্মীদের আইনগত অধিকার। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
এই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম কিস্তির টাকা ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন করায় বিষয়টি আপাতত আদালতে আটকে আছে।
নতুন সরকারের প্রথম পরীক্ষা ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক
২৭ মে সুপ্রিম কোর্টে যে শুনানি হতে যাচ্ছে, সেটিই নতুন রাজ্য সরকারের অধীনে প্রথম আইনি পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই মনিটরিং কমিটি এবং রাজ্য সরকার নিজ নিজ রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই শুনানির পরেই নতুন সরকারের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
তবে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা হচ্ছে। আদালতের শুনানির তিন দিন পর, অর্থাৎ ৩০ মে, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডিএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রধান ৪টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। এই দ্বিমুখী প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা মেটানোর নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সরকারি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব
আদালত এবং সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং পেনশনারদের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। যদি ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া পরিশোধের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়, তবে তা কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি দেবে।
অন্যদিকে, ৩০ মে-র বৈঠকে সরকারের সদিচ্ছা প্রকাশ পেলে দীর্ঘদিনের কর্মবিরতি এবং আন্দোলনের ক্ষোভ প্রশমিত হতে পারে। সব পক্ষের প্রত্যাশা, এই জট কাটিয়ে এবার প্রশাসনিক কাজে নতুন গতি ফিরবে এবং স্থায়ী সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী ও সময়সূচি
- ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় এবং বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটি গঠন।
- ৪ মে, ২০২৬: বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা ও রাজ্যে নতুন সরকার গঠন।
- ২৭ মে, ২০২৬: সুপ্রিম কোর্টে নতুন সরকারের উপস্থিতিতে প্রথম ডিএ মামলার শুনানি।
- ৩০ মে, ২০২৬: মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ৪টি প্রধান কর্মচারী সংগঠনের বিশেষ আলোচনা বৈঠক।









