West Bengal DA Hike: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে টালবাহানা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সরকারের এই দীর্ঘসূত্রিতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাজ্য বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীরা অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। কিন্তু এপ্রিল পেরিয়ে গেলেও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা মেমো না আসায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। অনেকেরই এপ্রিল মাসের বেতনে এই বর্ধিত ডিএ না মেলায় হতাশা বাড়ছে।
মলয় মুখোপাধ্যায়ের কথায়, বিধানসভার মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে সরকার কোনো ঘোষণা করলে তা দ্রুত কার্যকর করা উচিত। এই গড়িমসি কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র যে বড় ফারাক তৈরি হয়েছে, তা মেটানোর কোনো সুস্পষ্ট পথরেখা সরকারের কাছে নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
বকেয়া ডিএ এবং বর্তমান পরিসংখ্যান
নিচের টেবিলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় ডিএ হারের আকাশ-পাতাল তফাত তুলে ধরা হলো।
| বিষয় | পরিসংখ্যান ও হার |
|---|---|
| বর্তমান ডিএ হার (রাজ্য) | ১৮ শতাংশ |
| কেন্দ্রীয় সরকারি ডিএ হার | ৬০ শতাংশ |
| মোট বকেয়া ব্যবধান | ৪২ শতাংশ |
| প্রস্তাবিত কার্যকরের তারিখ | ১লা এপ্রিল, ২০২৬ |
সরকারি কর্মীদের ওপর এই পরিস্থিতির প্রভাব
এই অনিশ্চয়তা কর্মীদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক পরিকল্পনায় বড় আঘাত হানছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে ডিএ না পাওয়াটা কর্মীদের কাছে অসম্মানজনক। তাঁদের স্পষ্ট কথা, ডিএ কোনো করুণা নয়, এটি কর্মীদের মৌলিক আইনি অধিকার যা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এই ঢিলেঢালা ভাব কাজের গতিকেও ধীর করে দিচ্ছে। মলয় মুখোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিকে “দুঃখজনক” এবং “লজ্জাজনক” আখ্যা দিয়েছেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রীর করা প্রতিশ্রুতি যখন সময়মতো রক্ষিত হয় না, তখন প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে কর্মীদের মনে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে।
কেন্দ্র যেখানে অষ্টম বেতন কমিশনের দোরগোড়ায়, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বকেয়া নিয়ে লড়ছেন এবং সপ্তম বেতন কমিশনের দাবি তুলেছেন।