Pensioner: রাজ্য বাজেটে পেনশনভোগীদের জন্য বিরাট উপহার! চিকিৎসার খরচ নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের
Pensioner: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ—উভয় ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে লাখ লাখ প্রবীণ নাগরিকের জীবনে। বিশেষ করে বয়সের ভারে যারা নুয়ে পড়েছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ঘোষণাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই নতুন পদক্ষেপকে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো এই বাজেটের মূল ফোকাস পয়েন্টগুলো নিয়ে।
হেলথ স্কিমে ক্যাশলেস চিকিৎসার সীমা বৃদ্ধি
রাজ্য সরকারের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’ (WBHS)-এর অধীনে এতদিন পেনশনভোগীরা নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা পেতেন। তবে ক্রমবর্ধমান চিকিৎসার খরচের কথা মাথায় রেখে সরকার নিয়মে বড় বদল আনার প্রস্তাব দিয়েছে।
- বর্তমান নিয়ম: বর্তমানে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা হেলথ স্কিমের মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস বা নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা পেয়ে থাকেন।
- নতুন প্রস্তাব: প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, যদি কোনো পেনশনভোগীর চিকিৎসার বিল ২ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করে, তবে তাঁকে আর সম্পূর্ণ বিপদে পড়তে হবে না। ২ লক্ষ টাকার পরবর্তী যে অতিরিক্ত খরচ হবে, তার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা হিসেবে কভার করবে সরকার।
- শর্তাবলী: এই বর্ধিত সুবিধা পাওয়ার জন্য রোগীকে অবশ্যই সরকারি প্যানেলভুক্ত (Empanelled) কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়মাবলী জানিয়ে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রবীণদের ওপর থেকে চিকিৎসার খরচের বোঝা কমাতেই এই মানবিক উদ্যোগ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও ডিএ (DA) বৃদ্ধি
চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়েও বড় আপডেট এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রদান করতে হবে।
শীর্ষ আদালতের এই কড়া অবস্থানের পরেই রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য ৪ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় হারের সমান ডিএ, তবুও বাজেটের এই ঘোষণা কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
শুধু সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীই নন, সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষের জন্যও বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে:
- যুব সাথী প্রকল্প: রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য এই নতুন প্রকল্পটি চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
- আশা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি: দীর্ঘ আন্দোলনের পর আশা কর্মীদের মাসিক বেতন ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- সিভিক ভলান্টিয়ার: পুলিশ প্রশাসনের কাজে যুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতনও বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই বাজেটে।
রাজ্য সরকারের এই বাজেট প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের চিকিৎসার দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।