Yoga Day 2026: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে (২১ জুন) রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যোগব্যায়াম করা বাধ্যতামূলক হতে পারে না। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিবের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যেখানে বলা হয়েছিল সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে এই দিনটিতে উপস্থিত থেকে যোগাভ্যাস করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।
সূচিপত্র
মামলার প্রেক্ষাপট ও মুখ্যসচিবের নির্দেশিকা
গত ১৪ জুন রাজ্যের মুখ্যসচিব একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে বলা হয়, আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে সমস্ত সরকারি কর্মী, শিক্ষক, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে নাম রেজিস্ট্রেশন করে যোগাভ্যাস কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। এমনকি অস্থায়ী, চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদেরও এই নির্দেশিকার আওতায় আনা হয়েছে। এই নির্দেশিকাকে বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি।
আদালতে আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব
মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবীরা সওয়াল করেন। তাঁরা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসে যোগদান বাধ্যতামূলক করা যায় না। মাতৃদিবস বা পিতৃদিবসের মতো এটিও যার যার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত।
অন্যদিকে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে জানান, এটি রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, যা এবার ভারতে বিশেষ করে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংবিধানের ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহার পর্যবেক্ষণ
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, রাজ্যের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য ভালো। কিন্তু এই কর্মসূচিতে কে অংশ নেবেন আর কে নেবেন না, তা সম্পূর্ণভাবে একজন কর্মীর ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। কোনোভাবেই এটি জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া যায় না। আদালত রাজ্য সরকারকে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে।
কলকাতায় যোগ দিবসের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা
এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কেন্দ্র হিসেবে কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই মেগা ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। তাই রেড রোড সহ পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে পুলিশ। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিষ্কার করে সাধারণের জন্য খুলে দিতে হবে।
সরকারি কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি ও আশঙ্কা
- অবাস্তব বাধ্যবাধকতা: দূরবর্তী স্থানে কর্মরত কর্মীদের পক্ষে কাজ ফেলে ব্লক অফিসে এসে যোগাভ্যাস করা বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি কর্মচারী সংগঠনের।
- শারীরিক অক্ষমতা: অসুস্থ বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত কর্মচারীদের জোর করে যোগব্যায়াম করানো সম্ভব নয়।
- রেজিস্ট্রেশনের চাপ: অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে কর্মীদের ওপর বাড়তি প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আগামী শুনানিতে রাজ্য সরকার আদালতে কী হলফনামা পেশ করে এবং আদালত চূড়ান্ত কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী। কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তারা সন্তুষ্ট এবং তারা কর্মীদের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দেবেন যে এটি বাধ্যতামূলক নয়।









