7th Pay Commission: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২২ জুলাই, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের অর্থ দপ্তরের (অডিট শাখা) পক্ষ থেকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা (রেজোলিউশন নম্বর: ২৬৫৭-এফ(পি১)) প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই পে কমিশন রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, কর্পোরেশন, পর্ষদ ও বিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মীদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে।
সূচিপত্র
পে কমিশনের নেতৃত্বে কারা রয়েছেন?
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে গঠিত এই উচ্চ পর্যায়ের কমিশনে মোট চারজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ রয়েছেন:
- চেয়ারপার্সন: শ্রী অতনু চক্রবর্তী, আইএএস, ভারত সরকারের প্রাক্তন অর্থসচিব (অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ)।
- সদস্য: ডঃ পার্থ মুখোপাধ্যায়, সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের সিনিয়র ফেলো।
- সদস্য: ডঃ পার্থ প্রতিম পাল, আইআইএম কলকাতার অর্থনীতির অধ্যাপক।
- মেম্বার সেক্রেটারি: শ্রী দেবী প্রসাদ করণম, আইএএস, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের সচিব।
সপ্তম পে কমিশনের মূল কাজ ও শর্তাবলী (Terms of Reference)
নতুন পে কমিশন মূলত যে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কাজ করবে, সেগুলি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
- বেতন ও ভাতা পর্যালোচনা: বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে কর্মীদের মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা (DA), যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য বিশেষ ভাতা যৌক্তিক করার বিষয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
- কাজের পরিবেশ ও পদোন্নতি: এমন একটি আধুনিক বেতন কাঠামো তৈরি করা যা মেধাবী কর্মীদের সরকারি চাকরিতে আকর্ষণ করার পাশাপাশি কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দক্ষতা বাড়ায়। কর্মীদের ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ সুনিশ্চিত করা এবং বর্তমান পদোন্নতির নীতিগুলি পর্যালোচনা করা হবে।
- পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা: বর্তমান পেনশনভোগীদের পেনশনের কাঠামো সংশোধন করা এবং ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট ও চিকিৎসাজনিত সুবিধাগুলির আধুনিকীকরণের দিকটি খতিয়ে দেখা হবে।
- অষ্টম কেন্দ্রীয় পে কমিশনের প্রভাব: ভারতের অষ্টম কেন্দ্রীয় পে কমিশনের সিদ্ধান্ত, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক সম্পদের দিকটিও এই কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
কারা এই সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা পাবেন?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস, ওয়েস্ট বেঙ্গল জুডিশিয়াল সার্ভিসেস এবং ইউজিসি, এআইসিটিই বা আইসিএআর বেতন কাঠামোর আওতাধীন কর্মীদের বাদ দিয়ে রাজ্যের প্রায় সমস্ত সরকারি কর্মী এর সুবিধা পাবেন। নিচের টেবিলে সুবিধাভোগীদের একটি রূপরেখা দেওয়া হলো:
| বিভাগ | সুবিধাভোগীদের তালিকা (সংক্ষিপ্ত) |
|---|---|
| সরকারি দপ্তর | রাজ্য সরকারের রুল মেকিং কন্ট্রোলের অধীনে থাকা সমস্ত কর্মী |
| শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ | সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরি, পলিটেকনিক এবং প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট |
| স্থানীয় প্রশাসন | পৌরসভা, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, নোটিফাইড এরিয়া অথরিটি এবং পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান |
| বোর্ড ও কর্পোরেশন | রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, হাউজিং বোর্ড, ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন সহ অন্যান্য বিধিবদ্ধ সংস্থা |
কবে জমা পড়বে রিপোর্ট?
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই কমিশনের সদর দপ্তর হবে কলকাতায়। কমিশনকে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে আগামী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে কমিশন সরকারের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টও পেশ করতে পারবে।
আগামী অক্টোবরে ২০% ডিএ বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পর, আশা করা হচ্ছে ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই নতুন পে ম্যাট্রিক্সের নিয়মাবলি সামনে আসতে পারে। রাজ্য সরকারি কর্মীরা এখন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দিকে নজর রাখছেন, যা আনুমানিক ২.০৮ গুণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্যানেল তাদের কাজ শুরু করলে আমরা এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানাব।









