Primary Teachers: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীন ডিরেক্টর অফ স্কুল এডুকেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুমোদনহীন ছুটি নিয়ে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। রাজ্যের সব জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক অর্থাৎ DI (Primary Education)-দের এই সংক্রান্ত রিপোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, বহু ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছুটি মঞ্জুর হওয়ার আগেই স্কুলে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হন। আবার কেউ কেউ কোনো অনুমোদন ছাড়াই অনুপস্থিত থাকছেন। এই অনিষ্পন্ন ফাইলগুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় স্কুলের প্রশাসনিক কাজেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। মূলত সেই জট কাটাতেই এবারের এই নির্দেশ।
সূচিপত্র
নির্দেশিকায় ঠিক কী বলা হয়েছে?
DI-দের দুটি নির্দিষ্ট পথে হাঁটতে বলা হয়েছে। এখানে কোনো ধোঁয়াশা রাখা হয়নি।
- অনুপস্থিতির কারণ, ঘটনার Fact and Merit বিবেচনা করে যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত Leave Rules অনুযায়ী ছুটি দ্রুত মঞ্জুর করতে হবে।
- কোনো উপযুক্ত কারণ না থাকলে এবং তা ছুটির নিয়মের আওতায় না পড়লে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কার্যধারা শুরু করতে হবে।
এই দুটি বিকল্পের বাইরে তৃতীয় কোনো পথ নির্দেশিকায় রাখা হয়নি।
কেন ৩০ দিনের সময়সীমা?
জেলায় জেলায় এই ধরনের ফাইল পড়ে থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় প্রতিটি DI অফিসকেই জবাবদিহি করতে হবে। রিপোর্ট জমা না পড়লে বা কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
প্রভাব: আপনার চাকরিতে কী বদলাবে?
যাঁদের ছুটির আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে, তাঁদের কাছে এটা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে যাঁরা যথাযথ কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের জন্য এটা একধরনের সতর্কবার্তাও বটে।
| পরিস্থিতি | সিদ্ধান্ত | বেতনে সম্ভাব্য প্রভাব | সার্ভিস রেকর্ডে প্রভাব |
|---|---|---|---|
| যথাযথ কারণ ও প্রমাণ আছে | Leave Rules অনুযায়ী ছুটি মঞ্জুর | ছুটির ধরন অনুযায়ী বেতন কাটার সম্ভাবনা কম | কোনো বিরূপ মন্তব্য নথিভুক্ত হয় না |
| যথাযথ কারণ নেই | বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কার্যধারা শুরু | অনুপস্থিত দিনগুলি সাধারণত Dies Non হিসেবে গণ্য হতে পারে | সার্ভিস বুকে বিরূপ মন্তব্য, পদোন্নতিতে বাধা আসতে পারে |
এই তুলনামূলক তথ্য মূল নির্দেশিকায় সরাসরি নেই, তবে সাধারণ প্রশাসনিক নিয়ম মেনে এমনটাই ঘটে থাকে। ফলে আপনার স্কুলের কোনো সহকর্মীর ফাইল যদি এখনও DI অফিসে অমীমাংসিত পড়ে থাকে, আগামী এক মাসের মধ্যে তার একটা নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।
শিক্ষকদের সংগঠনগুলো অবশ্য এই নির্দেশকে দুই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে। একদিকে দ্রুত ছুটি মঞ্জুরের আশ্বাস মিলছে, অন্যদিকে থাকছে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও। এদিকে প্রধান শিক্ষকদেরও এখন থেকে অনুপস্থিতির নথি ঠিকঠাক রাখা এবং যথাসময়ে DI অফিসে পাঠানো জরুরি হয়ে দাঁড়াল।









