All in One Income Tax Calculator FY 2025-26

Download Now!
সরকারি কর্মচারী

7th Pay Commission: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বাম্পার খবর! সপ্তম পে কমিশনে বেতন বাড়বে কতটা? জানুন হিসেব

7th Pay Commission: সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে যেমন মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে, ঠিক তেমনই সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠন নিয়ে সরকারের ইতিবাচক ইঙ্গিত কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় থাকা কর্মচারীরা এখন তাকিয়ে আছেন নতুন বেতন কাঠামোর দিকে। কিন্তু কবে নাগাদ এই নতুন নিয়ম চালু হতে পারে এবং পকেটে ঠিক কতটা বাড়তি টাকা আসবে, তা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। চলুন, বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য পরিসংখ্যানগুলো একটু বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

কবে থেকে চালু হতে পারে সপ্তম পে কমিশন?

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশন বা রোপা ২০১৯ (ROPA 2019)-এর নিয়ম অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। সরকারি নিয়ম ও মেয়াদ অনুযায়ী, এই ষষ্ঠ পে কমিশনের সময়সীমা শেষ হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ। সাধারণ বা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছর অন্তর বেতন কমিশন বা পে কমিশন গঠন করা হয়। সেই হিসেব কষলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি সিলমোহর পড়েনি, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের অষ্টম বেতন কমিশনের টাইমিংয়ের সাথে তাল মিলিয়েই রাজ্য এই পদক্ষেপ নিতে পারে।

বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কী সংকেত দিচ্ছে?

নতুন বেতন কমিশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জটিল বিষয়টি হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ (Fitment Factor)। মূলত এই ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করেই মূল বেতন বা বেসিক পে নির্ধারিত হয়। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, রাজ্য সরকার এবার কেন্দ্রীয় সরকারের হারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করতে পারে।

  • সম্ভাব্য ফ্যাক্টর: আশা করা হচ্ছে, রাজ্য সরকার ২.৯১ থেকে ৩.১৫ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বিবেচনা করতে পারে।
  • বেতন বৃদ্ধির উদাহরণ: যদি কোনো কর্মীর বর্তমান মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা হয়, তবে ২.৯১ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরা হলে নতুন বেসিক পে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৫২,৩৮০ টাকা।
  • সর্বোচ্চ সম্ভাবনা: অন্যদিকে, যদি ৩.১৫ গুণ ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তবে ওই একই কর্মীর বেতন পৌঁছে যেতে পারে ৫৬,৭০০ টাকায়।

স্বাভাবিকভাবেই, বেসিক পে বৃদ্ধি পেলে তার সাথে যুক্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং ডিএ-র পরিমাণও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা দিনের শেষে কর্মীদের ‘ইন-হ্যান্ড’ স্যালারিতে বড়সড় পরিবর্তন আনবে।

পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবতা

বাজেটে পে কমিশন গঠনের সদিচ্ছা থাকলেও, এটি কার্যকর হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এর জন্য বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ পার করতে হবে:

১. রাজ্য সরকারকে প্রথমে পে কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
২. কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্য নিয়োগ করা হবে।
৩. গঠিত কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশ বা রিপোর্ট অর্থ দপ্তরের কাছে জমা দেবে।
৪. অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নতুন বেতন কাঠামো সরকারিভাবে বলবৎ হবে।

সুতরাং, এখনই বেতন বৃদ্ধির টাকা হাতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু হলেও, বাস্তবে তা কার্যকর হতে এখনও বেশ কিছুটা সময়ের অপেক্ষা। তবে সরকারের এই উদ্যোগ যে লক্ষ লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগীদের অবসরকালীন ও বর্তমান জীবনে বড় স্বস্তি আনবে, তা বলাই বাহুল্য।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button