ডিএ

WB DA Case: সুপ্রিম কোর্টে মহার্ঘ ভাতা মামলার শুনানি, সরকারি ও গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

Da Case Supreme Court
Da Case Supreme Court

এক নজরে

  • ১৫ই এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে।
  • রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ মেটানো নিয়ে ৫ই ফেব্রুয়ারির নির্দেশের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা হবে।
  • ১৩ই মার্চ জারি করা ৯৯৮-এফ(পি২) বিজ্ঞপ্তিতে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে ইউনিটি ফোরাম।
  • বকেয়া ডিএ না মেটানোয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সহ একাধিক কর্মী সংগঠনের দায়ের করা ৪টি আদালত অবমাননার মামলা উঠবে।
  • আদালতের এই শুনানির রায়ের ওপর রাজ্য সরকারি এবং সরকার-পোষিত স্কুলের কর্মীদের বকেয়া প্রাপ্তি অনেকাংশে নির্ভরশীল।

WB DA Case: আগামীকাল, ১৫ই এপ্রিল ২০২৬। সারা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর এখন দিল্লির দিকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সুপ্রিম কোর্টের ১১ নম্বর কোর্টে উঠতে চলেছে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটি। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য তা কতটুকু পালন করল এবং বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের দায়ের করা আদালত অবমাননার অভিযোগ—এই দুই ইস্যুতেই কালকের আইনি লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সূচিপত্র

১৩ই মার্চের বিজ্ঞপ্তির সেই জটিলতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

পিছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ৫ই ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি ৩১শে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে মেটাতে হবে। সেই চাপের মুখে পড়ে গত ১৩ই মার্চ রাজ্য অর্থ দপ্তর তিনটি পৃথক মেমো জারি করে। এর মধ্যে 996-F(P2) ছিল সক্রিয় কর্মীদের জন্য, 997-F(P2) পেনশনভোগীদের জন্য এবং 998-F(P2) মেমোটি ছিল গ্রান্ট-ইন-এইড বা সরকার-পোষিত স্কুল, কলেজ ও পুরসভার কর্মীদের জন্য।

তবে এখানেও একটা বড়সড় ‘কিন্তু’ থেকে গেছে। ৯৯৬ ও ৯৯৭ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের বকেয়া টাকা জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে ঢুকবে আর গ্রুপ ডি কর্মীরা পাবেন সরাসরি নগদ। কিন্তু গোলমাল বাঁধল ৯৯৮ নম্বর মেমোটি নিয়ে। সেখানে আদালতের নির্দেশের কোনো উল্লেখ যেমন ছিল না, তেমনি গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের টাকা পাওয়ার বিষয়টিও ধোঁয়াশায় রাখা হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদেই ইউনিটি ফোরামের তরফে সুপ্রিম কোর্টে একটি সংশোধনী আবেদন করা হয়েছে।

Advertisement

১৫ই এপ্রিলের শুনানিতে যা যা থাকতে পারে

সুপ্রিম কোর্টের কজ লিস্ট ও অফিস রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামীকালের শুনানিতে মূলত তিনটি বিষয় প্রাধান্য পাবে:

  • বিবিধ আবেদন (Miscellaneous Applications): গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের হয়ে লড়াই করা ইউনিটি ফোরামের কনভেনার বিপ্লব ব্যানার্জীর আবেদনটি শোনা হবে। প্রশ্ন উঠবে, ৩১শে মার্চের ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও কেন এই কর্মীরা এক টাকাও পেলেন না?
  • আদালত অবমাননার মামলা: বকেয়া মেটাতে গড়িমসি করার অভিযোগে চারটি সংগঠনের মামলা কাল উঠবে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন, সরকারি কর্মচারী পরিষদ এবং ইউনিটি ফোরামের (মূল মামলাকারী দেবপ্রসাদ হালদার) পিটিশনগুলো রাজ্যকে যথেষ্ট চাপে রাখতে পারে।
  • রাজ্যের সময় চাওয়ার আর্জি: অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি ‘ইন্টারলোকটরি অ্যাপ্লিকেশন’ জমা দিয়ে হাত তুলে জানিয়েছে, রাজ্যের ভাঁড়ার শূন্য। এই আর্থিক সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে তারা বকেয়া মেটানোর জন্য আরও অতিরিক্ত সময় চাইছে। এমনকি ৫ই ফেব্রুয়ারির রায়ের কিছু অংশ বদলানোরও আবেদন করেছে নবান্ন।

সাধারণ কর্মচারীদের ওপর এর প্রভাব ঠিক কতটা?

আগামীকালের রায়ের ওপর রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। সুপ্রিম কোর্ট যদি রাজ্যের সময় বাড়ানোর আর্জি খারিজ করে দিয়ে কড়া অবস্থান নেয়, তবে দ্রুত ডিএ-র টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে সরকারকে। বিশেষ করে রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) অনুযায়ী বকেয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের যে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, তা কাটার একটা আইনি পথ তৈরি হতে পারে। এক কথায়, শীর্ষ আদালত কাল রাজ্যকে কড়া দাওয়াই দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>