PM Kisan Registration: পিএম কিষান প্রকল্পে নতুন আবেদন শুরু, জমির মালিকানায় কড়া শর্ত ও ফর্ম ফিলাপের সম্পূর্ণ গাইড
PM Kisan Registration: কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম কিষান সম্মান নিধি যোজনা ভারতের কৃষকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকরা বছরে মোট ৬০০০ টাকা অনুদান পেয়ে থাকেন। ২০২৬ সালের জন্য এই প্রকল্পে নতুন নাম নথিভুক্তকরণ বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, নতুন করে আবেদন করার আগে পরিবর্তিত নিয়মাবলী এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত শর্তগুলি জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য ভুলের কারণে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে।
জমির মালিকানা নিয়ে নতুন শর্তাবলী (Eligibility Rules)
পিএম কিষানে নাম তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে জমির মালিকানা সংক্রান্ত নিয়মে। আপনার নিজের নামে জমি থাকলেই যে আপনি টাকা পাবেন, বিষয়টি এখন আর তেমন সরল নেই। ২০১৯ সালের পরবর্তী সময়ে যারা জমির মালিক হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মটি নিম্নরূপ:
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি: যদি ২০১৯ সালের পর আপনার বাবা, মা বা দাদুর মৃত্যুর কারণে জমিটি আপনার নামে রেকর্ড হয়ে থাকে, তবে আপনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। ফর্মে আপনাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘Death of Father’ বা ‘Death of Husband’ ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে।
- কেনা জমি: যদি আপনি ২০১৯ সালের পর টাকা দিয়ে জমি কিনে নিজের নামে করেন বা অন্য কোনো সাধারণ উপায়ে মালিকানা পরিবর্তন হয়, তবে আপনি পিএম কিষানের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এই ধরনের আবেদন এখন সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে বসার আগে নিচের নথিপত্রগুলি হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন। এতে তথ্যের গরমিল হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
| নথিপত্র | কেন প্রয়োজন? |
|---|---|
| আধার কার্ড | আবেদনকারী ও স্বামী/স্ত্রীর পরিচিতি যাচাইয়ের জন্য। |
| জমির রেকর্ড (পর্চা) | খতিয়ান ও দাগ নম্বরের প্রমাণ এবং পিডিএফ আপলোডের জন্য। |
| মোবাইল নম্বর | আধার ভেরিফিকেশন ও ওটিপি পাওয়ার জন্য। |
| রেশন কার্ড | পারিবারিক তথ্য সুনিশ্চিত করার জন্য। |
ধাপে ধাপে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি
পিএম কিষানের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আবেদন করা সম্ভব। প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রাথমিক ভেরিফিকেশন: অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের হোমপেজে ‘New Farmer Registration’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং রাজ্য নির্বাচন করে ওটিপি জেনারেট করতে হবে। এরপর আধারের সাথে লিঙ্ক থাকা নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে ভেরিফাই করতে হবে।
২. ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই: ভেরিফিকেশনের পর আধার কার্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং বাবার নাম ফর্মে চলে আসবে। আপনাকে কেবল নিজের ক্যাটাগরি (SC/ST/General) এবং রেশন কার্ড নম্বরটি বসাতে হবে। বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর আধার অথেন্টিকেশন করা বাধ্যতামূলক।
৩. জমির বিবরণ এন্ট্রি: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনার জমির জেলা, ব্লক ও গ্রামের নাম সিলেক্ট করার পর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ (একর এককে) নির্ভুলভাবে লিখতে হবে। জমিটি যদি যৌথ মালিকানাধীন হয় তবে ‘Joint’, আর একক হলে ‘Single’ অপশনটি বেছে নিতে হবে।
৪. জমির মালিকানা হস্তান্তরের তথ্য: জমিটি কবে আপনার নামে হয়েছে সেই তারিখ এবং কী কারণে হয়েছে (উত্তরাধিকার বা অন্য কিছু) তা ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে নির্বাচন করতে হবে। সবশেষে জমির রেকর্ডের পিডিএফ ফাইলটি আপলোড করে ফর্মটি ‘Save’ করতে হবে।
আবেদন পরবর্তী করণীয় ও টাকা পাওয়ার নিয়ম
অনেকেই মনে করেন অনলাইনে ফর্ম সাবমিট করলেই কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। আবেদন করার পর ‘Status of Self Registered Farmer’ অপশন থেকে স্ট্যাটাস চেক করতে হবে। এরপর অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি, আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবুক এবং জমির রেকর্ডের জেরক্স নিয়ে আপনার এলাকার স্থানীয় কৃষি দপ্তরে (ADA Office) জমা দিতে হবে। কৃষি দপ্তর ভেরিফাই করে অনুমোদন দিলেই তবে আপনার নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠবে।
বর্তমানে পিএম কিষানের টাকা সরাসরি আধার বেসড পেমেন্ট সিস্টেমে (DBT) পাঠানো হয়। তাই ফর্মে আলাদা করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আপনার আধার এবং ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক করা আছে, টাকা সরাসরি সেখানেই ঢুকবে।